বরাদ্দের নামে ইউএনও-এসিল্যান্ডের অর্থ বাণিজ্য, ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:৩৮

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গা পৌর সদরের বাজার পাড় কাঠপট্টি এলাকার সরকারি খাস খতিয়ানের জায়গায় দোকানঘর বরাদ্দের নামে ইউএনও ও এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খাঁন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন মিয়ার যোগসাজশে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কয়েক হাজার আবেদন গ্রহণ করেন দোকান বরাদ্দের নামে। হঠাৎ আবেদনকারী ব্যবসায়ীদের না জানিয়ে গত বুধবার দিনভর প্রশাসনের পক্ষ হতে ৮১ জনের নামে দোকান বরাদ্দ দিয়ে পজিশন বুঝিয়ে দেন।

বৃহস্পতিবার সকালে বরাদ্দ পাওয়া ঐসব ব্যবসায়ীরা দোকানঘর তুলতে গেলে হাজারো ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তারা এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে মিছিল নিয়ে এসিল্যান্ড অফিস ঘেরাও করে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের দপ্তরে পৌঁছালে তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস.এম মনিরুজ্জামান বৃহস্পতিবার দুপুরে এসে বরাদ্দকৃত দোকানঘর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। 

এ সময় ব্যবসায়ীদের শান্ত করে তিনি বলেন, কাউকেই এখনও পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মাঝে পরবর্তী নিদের্শনানুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হবে। বরাদ্দের বিষয়ে কোন ধরনের অনিয়ম থাকলে তা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে শত শত ব্যবসায়ী ফরিদপুর-৪ আসনের জনপ্রিয় সাংসদ মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের কাছে অভিযোগ করলে তিনি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মুঠোফোনে জানান, দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার ভাঙ্গা বাজার এলাকা। এখানে প্রতি শতাংশ জায়গার দাম কোটি কোটি টাকা। সরকারি এত বড় সম্পত্তি ইউএনও এবং এসিল্যান্ড কারো সাথে আলোচনা না করে কিভাবে বরাদ্দ দেন আমার বুঝে আসেনা। ভাঙ্গা বাজারের প্রাণকেন্দ্র কাঠপট্টি এলাকা, সেখানে দোকান বরাদ্দ দিতে হলে পৌরসভাসহ স্থানীয় সাংসদের সাথে আলোচনা করা প্রয়োজনটুকু তারা মনে করেন নাই। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা দুইজনে যে কাজটি করেছেন এতে করে এলাকায় ব্যবসায়ীদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সেই সাথে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ হতে পারে যেকোন সময়। এতে যদি কোন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয় তার দায়ভার তাদের দুইজনকেই নিতে হবে। আমি আশা করব যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করে প্রকৃত ভূমিহীন ব্যবসায়ীদের মাঝে দোকান বরাদ্দ দিয়ে পরিবেশ শান্ত করবেন।

বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়র আবু রেজা মো. ফয়েজ জানান, পৌরসভার ভেতরের খাস জায়গায় পৌর মার্কেট নির্মাণ করে ভূমিহীন ব্যবসায়ীদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়ার নীতিমালা থাকলেও ইউএনও এবং এসিল্যান্ড তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাজটি করেছে। এখন এলাকায় দুইটি পক্ষ তৈরি হয়ে যাওয়ায় যেকোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

জানা গেছে, ভাঙ্গা বাজারের প্রাণ কেন্দ্রে ৫৫ নং সদরদী মৌজার এসএ, দাগনং ৪২৩,৪২৪ ও বিএস দাগ নং ১৮৫২,১৮৫৩, ১নং খাস খতিয়ানে ৬২ শতাংশ জমি রয়েছে। এই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গা ঈদগাহ মাদ্রাসা ও এতিম খানার নামে ১০টি দোকান ঘর বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা করে আসছিল। নতুন করে তাদের বরাদ্দ না দিয়ে গত সপ্তাহে মাইকিং করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দোকানগুলো বুলড্রেজার দিয়ে ভেঙে দেয়। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে মালামাল কোনরকমে সরিয়ে নেয়। এরপর দিন রাতারাতি সমস্ত জায়গাটিতে বালু ভরাট করে এ্যাসিল্যান্ড।বুধবার সকালে ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের মনোনীত ৮১ জন ব্যক্তির মাঝে দোকানঘর বরাদ্দ দেয়। এতে করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের না দিয়ে তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের নামে দোকানঘর বরাদ্দ নামে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। প্রতিটি দোকান হতে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে এক শ্রেণির দালালদের সহায়তায় দোকান বরাদ্দর অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও ও এ্যাসিল্যান্ড।

পূর্বের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী দেলোয়ার ও মৃত্যু ডা. শাহাজাহানের স্ত্রী জানান, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে ব্যবসা করে আসছি। আমরা টাকা দিতে না পারায় আমাদেরকে লিজ দেওয়া হয় নাই।                                                                                                                                  

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রকিকুর রহমান খাঁন জানান, আমি যতটুকু জানতে পেরেছি উপজেলা সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করেছে।

অপর অভিযুক্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন মিয়া ছুটিজনিত কারণে বৃহস্পতিবার অফিসে হাজির না হওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/এএএম