ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের পরীক্ষার্থী গ্রহণের জন্য হল খোলার দাবি উঠছে বেশ কয়েকদিন ধরে। এ দাবিতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। অন্যদিকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে অধিকার পরিষদ।
অপরদিকে দুপুর ১২টায় উপাচার্যের সাথে আলোচনায় বসেন ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় হল খোলা জাতীয় সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা হল খোলার দাবি জানালেও বিচ্ছিন্নভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হল খুলে দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে ছাত্রলীগসহ প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপাচার্য কার্যালয়ে গিয়ে বৈঠক করলে উপাচার্য একথা জানান।
তাদের দাবি প্রেক্ষিতে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অসুবিধা ও সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে হলে থেকে পড়ালেখা করে। তাদের জন্য এখন এই পরিস্থিতিতে ঢাকায় থাকাটা ‘একটু কষ্ট হবে। তবে এই মহামারীতে শিক্ষার্থীদের এই কষ্টের চেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সহমত জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠনসহ শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করছি না। তবে এটি যদি স্বাভাবিক বন্ধ হলে প্রশাসন সিদ্ধান্তে যেতে পারতো। এই বন্ধটি হলো প্যানডেমিক উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য বন্ধ। এখানে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে বড় আকারে ঝুঁকি সম্ভাবনা আছে। কেউ কেউ মামলাও করতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবেও কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে যে, জাতীয় সিদ্ধান্ত একরকম, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত আরেক রকম।
তিনি বলেন, পুরো জাতিকে আমরা অন্যদিকে নিয়ে যেতে পারি না। কেউ এটাকে বলবে ‘ট্রাম্পের মতো আচরণ’। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে হল খুলতে জাতীয়ভাবে সিদ্ধান্ত লাগবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত লাগবে। পরে ছাত্রলীগ নেতারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে উপাচার্যের সাথে বৈঠক শেষ করেন। এ সময় উপাচার্য তাদের দাবিকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনার আশ্বাস দেন।
এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন, উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার, উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ফরিদা পারভীন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রজোটের বিক্ষোভ
দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের সাথে বৈঠক করে স্মারকলিপি দিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এর আগে টিএসসি থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করেন তারা। পরে উপাচার্যের সাথে বৈঠক করে স্মারকলিপি দেন জোটের নেতারা। এ সময় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন।
প্রগতিশীল ছাত্রজোটের অন্যান্য দাবিগুলো হলো- বেতন ফি মওকুফসহ অতিরিক্ত হারে সেশন ফি ও অন্যান্য ফি ও জরিমানা না নেওয়া এবং পরিবেশ পরিষদের সভা আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার রোডম্যাপ ঘোষণা করা।
ছাত্র অধিকার পরিষদের অবস্থান কর্মসূচি
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলার দাবিতে বুধবার সকাল ১১টা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
ইত্তেফাক/ইউবি
