সিপিডির সংলাপে বক্তারা

বিদ্যুত্ খাত নিয়ে সামগ্রিক অবস্থান ও কৌশলগুলো পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:০৯

কোভিড-পরবর্তী বাস্তবতার নিরিখে বিদ্যুত্ খাতের পরিকল্পনাগুলো সাজানো প্রয়োজন। ওভার ক্যাপাসিটির কারণে সরকারকে ভর্তুকি গুণতে হচ্ছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিদ্যুত্ খাতে চাহিদার যৌক্তিক প্রক্ষেপণ করা প্রয়োজন। সেইসঙ্গে বিদ্যুত্ খাত নিয়ে সামগ্রিক অবস্থান ও কৌশলগুলো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিদ্যুত্ খাত : ভবিষ্যত্ কর্মপরিকল্পনা ও উদ্যোগসমূহ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে এ বক্তব্য উঠে আসে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) আয়োজনে এই বিশেষজ্ঞ সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, দেশের শতকরা প্রায় ৩৭ শতাংশ বিদ্যুেকন্দ্রে এখনো ৪০ শতাংশের কম দক্ষতায় বিদ্যুত্ উত্পাদন হয়। অদক্ষতার বিষয়ে নজর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি মিশ্রণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কয়লা ও তেলভিত্তিক জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সেইসঙ্গে অদক্ষতা, দুর্নীতি ও অসংগতি বন্ধের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। ৭ম পঞ্চবার্ষিক সময়কালে সরকারকে জ্বালনি ও বিদ্যুত্ খাতে ২৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বলেন, মূল্যবৃদ্ধি, অদক্ষতা ও আর্থিক দায় মোকাবিলা করতে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে। স্রেডার চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে প্রেক্ষাপটে পুরোপুরি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। তবে বায়ুবিদ্যুত্ একটি বিকল্প উত্স হতে পারে, তাই সেটি নিয়ে আরো গবেষণার সুযোগ রয়েছে।

সংলাপে সিপিডির সুপারিশে বলা হয়, বিদ্যুত্ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন (দায়মুক্তি আইন) থেকে বের হয়ে আসার চিন্তা করতে হবে। যে রাজস্ব চাপ রয়েছে সরকারের ওপর, তা কমিয়ে আনতে হবে। বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে উত্পাদন ব্যয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায় ও অদক্ষতার ওপরেও গুরুত্ব দিতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, এদেশে বিদ্যুতের মিটার ভাড়া নির্ধারণ করতে রাষ্ট্রপতির আদেশ প্রয়োজন হয়। একনেক সভায় গ্যাসের প্রিপেইড মিটারে ভাড়া ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা করা হলো। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা তৈরি হয় কিন্তু কোনো প্রতিফলন হয় না। বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতে অনিয়ম হচ্ছে কিন্তু প্রতিকার হচ্ছে না। চাহিদা না থাকা সত্তেও রেন্টার পাওয়ার প্লান্টগুলোকে বছরের পর বছর ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

বুয়েটের অধ্যাপক ম তামিম বলেন, ওভারক্যাপাসিটি নিয়ে চিন্তার কিছু নাই। কারণ করোনার সময় ওভার ক্যাপাসিটি হবেই। তবে তেল ভিত্তিক পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যুত্ খাতে এখন দ্বিতীয় প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রথম দিকে উত্পাদন ছিল বড় সমস্যা। এখন বিতরণ ও মানসম্মত বিদ্যুত্ বিতরণ করাই চ্যালেঞ্জ।