তীব্র শীতের প্রকোপ

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:১৬

তীব্র শীত শুরু হচ্ছে। শীত মোকাবিলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী কতটা প্রস্তুত সে সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো

ঋতুচক্রের স্বাভাবিক নিয়মে প্রকৃতিতে এখন শীতের রাজত্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে দেশের উত্তর ও পার্বত্যাঞ্চলে শীতের মাত্রাও বেশি। অন্যদিকে, ভয়াবহ ত্রাস করোনার সংক্রমণ তো আছেই। সব মিলিয়ে তীব্র শীতে ২ কোটিরও বেশি হতদরিদ্র এবং কয়েক লাখ ছিন্নমূল মানুষের অবস্থা বেশ নাজুক। এই বিপুলসংখ্যকের শীত নিবারণ ও করোনা সংক্রমণ রোধে সামর্থ্য নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার সুসমন্বয় ও সুষম বণ্টন একান্ত আবশ্যক। এছাড়া সমাজের সামর্থ্যবানদের উষ্ণ মানবিক সহায়তায় শীতবস্ত্র, কম্বল, খাদ্য ও ওষুধ বিতরণের মাধ্যমে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ঠান্ডাজনিত রোগ ও মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।

আবু ফারুক, বান্দরবান

প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে ঋতুর পালাবদল ঘটে। কনকনে হিমেল হাওয়া ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দরিদ্র জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং মানুষের অসহায়ত্বকে প্রকট করে তোলে। হাড় কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবনে শৈত্যপ্রবাহ থেকে বাঁচার জন্য অসহায় দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন অনেক শীতবস্ত্রের। শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজন সুচিকিত্সা ও ওষুধপথ্য । বিশেষ করে শিশুরা গণহারে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের সুচিকিত্সার ব্যাপারে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিলে শীতে দুর্ভোগ যেমন বাড়বে, তেমনি শীতজনিত মৃত্যুর হারও বাড়বে।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

মেরাদিয়া, ঢাকা।

হাড়কাঁপুনি শীতে গরিব মানুষের কষ্ট অবর্ণনীয়। শৈত্যপ্রবাহের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন-জীবিকা। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় দুস্থ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায় চরমে। তীব্র শীতের কারণে ডায়েরিয়া, আমাশয়, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ে আশঙ্কাজনক হারে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি থাকে। উত্তর পশ্চিম জনপদে শৈত্যপ্রবাহে গরম কাপড়ের অভাবে শীতের কষ্টে ভোগে শিশু, বৃদ্ধসহ নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষ। এ সময় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বৃত্তবানদের নৈতিক দ্বায়িত্ব। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় শীতের কষ্ট থেকে দরিদ্র মানুষদের রক্ষা করা সম্ভব।

মো. জিল্লুর রহমান

গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

শহরাঞ্চলে শীতের অনুভূতি বেশি না হলেও গ্রামে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি রোগ-কষ্টে ভোগেন শীতকালে। হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধিপাচ্ছে। দেশে করোনা সংকটে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, সংগঠন, ব্যক্তিবিশেষ যে ভাবে খাদ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে, এই শীতেও অসহায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কষ্ট লাঘবে শীতবস্ত্রসহ সুরক্ষাসামগ্রী নিয়ে মানবিক কার্যক্রমে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

মো. সাইমুন

চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম।

শীতের দাপটে বিপর্যস্ত দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী। শীতকাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে এক আতঙ্কের নাম। তাদের কাছে শীত নিবারণের পোশাক থাকে না, থাকে না কোনো মাথা গোঁজার স্থায়ী আবাসস্থল। অন্যদিকে করোনার  তাণ্ডব বেড়েই চলেছে, শীতের প্রকোপ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি পর্যায়ের সহায়তা, বেসরকারি কিংবা ব্যক্তি পর্যায়ের সহায়তা কার্যক্রম এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কষ্ট লাঘব করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়।

ফারজানা বিনতে মুরাদ ইরা

ঝিকরগাছা, যশোর

সারাদেশে ক্রমান্বয়ে শীতের তীব্রতা ঘনীভূত হচ্ছে । প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র ও গরম কাপড়ের অপ্রতুলতা শীতপীড়িত মানুষের কষ্টেকে করে তুলছে তীব্রতর। বিশেষ করে এ সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি থাকায় সেখানকার সহায়সম্বলহীন শীতার্ত মানুষের কষ্টের কোনো সীমা থাকে না। তাই মানবিক কারণে এ সময়টাতে সামর্থ্যবান মানুষের পক্ষ থেকে শীতার্তদের শীতকষ্ট লাঘবে পাশে দাঁড়ানো  অতি আবশ্যক।

ওয়ারেছ আলী খান

নরসিংদী সদর, নরসিংদী

সারা দেশে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় দরিদ্র মানুষের, বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি  রয়েছে। শীতার্ত মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ানোর সামাজিক উদ্যোগও এখন পর্যন্ত সেভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠেনি। সরকারের উচিত শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের জন্য গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করা। বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নিতে পারে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর

তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দরিদ্র জনগোষ্ঠী-অধ্যুষিত অঞ্চলে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং মানুষের অসহায়ত্বকে প্রকট করে তোলে। তাই শীতার্ত হতদরিদ্র মানুষের প্রতি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের সাহায্য ও সহানুভূতির হাত সম্প্রসারিত করে পর্যাপ্ত পরিমাণে শীতবস্ত্র বিতরণ করে, তাদের পাশে এসে দাঁড়ানো দরকার । নিঃস্বার্থভাবে শীতার্ত মানুষের সাহায্য ও সেবা করাই মানবতার সেবা।

বিলকিছ আক্তার

কাউনিয়া, রংপুর

শীতকাল এলে দেশে ঠান্ডাজনিত রোগব্যাধি বেড়ে যায়। দারিদ্র্যপীড়িতদের দুঃখ-কষ্ট বাড়ে শীতবস্ত্রের অভাবে। রোগব্যাধি থেকে বাঁচার জন্য সাবধান থাকা জরুরি।

সালেহা আফরিন বেবি

শিবগঞ্জ, সিলেট

দেশের এক-চতুর্থাংশ মানুষ এখনো দরিদ্র। আবার করোনার নেতিবাচক প্রভাবে কর্ম হারানোর অনেকেই এখনো স্বাভাবিক আয়ে ফিরতে পারেননি। এরই মধ্যে শীতের আগমন এবং ক্রমশ ঠান্ডার মাত্রা বেড়ে যাওয়াটা হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য দুঃসংবাদ। তাদের কষ্ট কমাতে হলে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদেরও পাশে দাঁড়ানো উচিত।

মোহাম্মদ ফয়সাল

পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম।

শীতের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে; কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই এখনো শীতবস্ত্রহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। কেবল সরকারি সহায়তায় বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষকে শীতবস্ত্র ও কম্বল দেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং বিত্তশালীদের সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন। 

এ এফ এম সালাহউদ্দীন

বান্দরবান

শীত যেভাবে বাড়ছে এবং করোনার প্রকোপ যেভাবে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে তাতে মানুষের দুশ্চিন্তার মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে। শীত প্রতিরোধে দরিদ্র জনগোষ্ঠী মোটেও প্রস্তুত নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত এই মহামারিকালীন শীতে। ধনীরা যদি দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে শীত এবং মহামারি ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভবপর হবে।

এস এম হূদয়

ঢাকা।

শীত মৌসুমকে ঘিরে কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার এবং শিল্পীর কণ্ঠে উঠে এসেছে নানা শিল্প সাহিত্য আর গান। তবে গরিব-দুঃখীর জন্য শীত হচ্ছে বিভীষিকাময়। যে যার অবস্থান থেকে শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসা উচিত।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

তীব্র শীত শুরু হয়েছে , জেঁকে বসা শীতে দেশের মানুষ জবুথবু হয়ে পড়েছে। গৃহহীন মানুষেরা ফুটপাতে রাত যাপন ও শীতের ঠান্ডা থেকে বাঁচতে কম্বল গায়ে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছেন। শীত মোকাবিলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অবশ্যই যে যার অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া দরকার।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ

গরিব-দুঃখী, অসহায়, সহায়-সম্বলহীন মানুষ খোলা আকাশের নিচে শীতের রাত কাটায়। তাই আমাদের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে এসব অসহায়, দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

পারভীন সুলতানা বিউটি

শৈলকুপা, ঝিনাইদহ

শীত মোকাবিলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অবশ্যই প্রস্তুতি দরকার। শীতবস্ত্র হিসেবে বিতরণ করা হয় মূলত পাতলা কম্বল, যা দিয়ে তাদের কিছুটা শীত নিবারণ করা যায়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাহায্য সহযোগিতা পরিচালনা করতে হবে।

বজলুল করিম

ধানমন্ডি, ঢাকা

গরিব-দুঃখীর জন্য শীতকাল কষ্টের দিন। তারা বড় অসহায়ত্ব ও বিপর্যস্তের মধ্যে জীবনযাপন করে থাকে। তাই আমরা সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করি।

রাসেল আহমেদ

মুগদা, ঢাকা

পৌষের শুরুতেই বেড়েছে শীতের তীব্রতা। তবুও ঘরে বসে নেই কর্মজীবী মানুষ। এই সময় অসহায় শ্রমজীবী মানুষের জন্য সাহায্য-সহযোগিতা ও উষ্ণতা বাড়িয়ে দেওয়া সবার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

মাসুদ-উজ-জামান

তোপখানা, ঢাকা

শীতের সময় হতদরিদ্র মানুষ গরম কাপড়-চোপড়, লেপ-তোষক ক্রয় করতে না পারলেও ধনী মানুষের কাছ থেকে ও সরকারের তরফ থেকে সাহায্য সহযোগিতা পেয়ে থাকে। সমন্বিত উদ্যোগে আরো সাহায্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করা গেলে শীতে দরিদ্র অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভবপর হবে।

মাখরাজ খান

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

দেশের ছিন্নমূল দরিদ্র ও গরিব জনগোষ্ঠী তীব্র শীতে দুঃখ-কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করে যাচ্ছে। তাদের কাছে শীত নিবারণের জন্য থাকে না কোনো প্রয়োজনীয় লেপ, কাঁথা, কম্বল। ব্যক্তিগতভাবে যারা সামর্থ্যবান এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সম্মিলিতভাবে একটি তহবিল গঠন করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। শীতবস্ত্রের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সুষ্ঠুভাবে বিতরণের ব্যবস্থা করা দরকার।

আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌ. (হিফ্জু)

হাউজিং স্টেট, রাজশাহী-৬২০২।

শীতের দিনে নিম্ন আয়ের মানুষ চরম কষ্টে জনজীবন অতিবাহিত করে থাকে। নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে এসব দরিদ্র মানুষেরা। তার মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগ। সবার পক্ষ থেকে তাদের জন্য সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া দরকার।

অ্যাডভোকেট রবিউল হোসেন রবি

মিরপুর, ঢাকা

তীব্র শীতের কবল থেকে দরিদ্র মানুষকে রক্ষার জন্য বেশি বেশি গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব সরকারের এবং সমাজের বিত্তবানদের। গরিব-অসহায় মানুষের জন্য অর্থ ব্যয় না করে অর্থ জমিয়ে বিত্তবানরা কী বিশেষ লাভবান হবেন?

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী

তীব্র শীত বইছে এখন—সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহও। এই শীত মোকাবিলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুঃখ, কষ্ট ও বেদনা সব সময়ই থাকে। আর্থসামাজিকভাবে যারা উন্নত, যাদের করার ক্ষমতা রয়েছে, তাদের এখনই এই হতদরিদ্র, ছিন্নমূল মানুষের জন্য হাত বাড়িয়ে দেওয়া নৈতিক কর্তব্য।

মো. মিজানুর রহমান প্রধান

গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ