পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল, বিজেপির বিরুদ্ধে জোট গড়বে সিপিএম-কংগ্রেস

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪৩

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বাকি মাত্র কয়েকমাস। তার অনেক আগে থেকেই সিপিএম ও জাতীয় কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে মমতা ব্যানার্জির প্রবল প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। লড়াই চলছে সমানে সমানে। নিজেদের হারানো সম্মান পুনরুদ্ধারে পশ্চিমবঙ্গের এই বিধানসভা নির্বাচনে জোট বেঁধে লড়বে জাতীয় কংগ্রেস এবং সিপিএম। বৃহস্পতিবার জাতীয় কংগ্রেসের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী এই জোট প্রক্রিয়ায় সম্মতি দিয়েছেন।

জাতীয় কংগ্রেসের একদা প্রবল প্রতিপক্ষ সিপিএম পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালে মমতা ব্যানার্জির কাছে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই বেশ কোণঠাসা। ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ২০১৬ সালে তারা জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে লড়েছিল। তাতে খানিকটা সম্মান রক্ষা হয়েছিল। ২৯৪ আসনের মধ্যে জোট পেয়েছিল ৭৬ আসন। এর মধ্যে জাতীয় কংগ্রেস ৪৪টি এবং বামফ্রন্ট ৩২টি। বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ৩টি আসন। মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ২১১ আসন। তারপর গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেক পানি।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেস, সিপিএমের জোট হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস পায় ২২টি, বিজেপি ১৮টি, জাতীয় কংগ্রেস ২টি। সিপিএম কোনও আসন পায়নি। ভরাডুবির পর থেকেই নিজেদের অবস্থান নিয়ে ভাবতে বসেছিল জাতীয় কংগ্রেস, সিপিএম। নিজেদের পুরনো জায়গা ফিরে পেতে মরিয়া হয়। গত অক্টোবরেই পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে ভোট লড়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সিপিএম। এবার নিল জাতীয় কংগ্রেস। 

সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে কোন দল কত আসনে লড়বে তা নিয়ে এবার আলোচনা শুরু হবে। 

সিপিএমের প্রস্তাব, ১৯৭৭ সাল থেকে সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট এবং জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে যে দল যে আসনে বেশি বার জিতেছিল বা এগিয়ে ছিল তার ভিত্তিতে আসন সমঝোতা করা হোক। যদিও জাতীয় কংগ্রেসের প্রস্তাব তাদের বেশি কিছু আসন দেওয়া হোক। সোনিয়া গান্ধীর সম্মতির পর এখন তা নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।

 

ইত্তেফাক/ইউবি