ভাঙ্গা পৌর সদরের বাজারপাড় কাঠপট্টি এলাকার সরকারি জায়গায় দোকানঘর বরাদ্দে ইউএনও ও এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এক সপ্তাহ ধরে দোকান বরাদ্দের নামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খাঁন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন মিয়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কয়েক হাজার আবেদন গ্রহণ করেন। কিন্তু হঠাত্ করেই আবেদনকারীদের না জানিয়ে গত বুধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮১ জনের নামে দোকান বরাদ্দ দিয়ে পজিশন বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বরাদ্দ পাওয়া ঐসব ব্যবসায়ী দোকানঘর তুলতে গেলে হাজারো ব্যবসায়ীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবিতে এসিল্যান্ড অফিস ঘেরাও করে। পরে জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের নির্দেশে গতকাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম মনিরুজ্জামান এসে বরাদ্দকৃত দোকানঘর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের শান্ত করে তিনি বলেন, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যেই পরে নির্দেশনানুযায়ী দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। বরাদ্দের বিষয়ে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থ নেওয়া হবে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে শত শত ব্যবসায়ী ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের কাছে অভিযোগ করলে তিনি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মুঠোফোনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার ভাঙ্গা বাজার এলাকার প্রতি শতাংশ জায়গা এখন মহামূল্যবান। সরকারি এত সম্পত্তি ইউএনও এবং এসিল্যান্ড কারো সঙ্গে আলোচনা না করে কীভাবে বরাদ্দ দেন তা বোধগম্য নয়। আমি আশা করব, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে দোকান বরাদ্দ দিয়ে পরিবেশ শান্ত করবেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রকিবুর রহমান খান জানান, ‘আমি যতটুকু জানি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজটি করেছেন’। তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন মিয়া ছুটিজনিত কারণে বৃহস্পতিবার অফিসে না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
