পদ্মা সেতুকে ঘিরে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৫৫

পদ্মা সেতু ও পায়রা বন্দরের বাইরে আরো ১২ উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। এসব প্রকল্প শেষ হলে এই এলাকায় ব্যবসার প্রসার ঘটবে, মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং সার্বিকভাবে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক  উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

পদ্মা সেতুর সর্বশেষ স্প্যান বসানোর পাশাপাশি পটুয়াখালীর লেবুখালীর পায়রা নদীতে নির্মিত পায়রা সেতুর নির্মাণ কাজ প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। পায়রা নদীতে এ সেতু নির্মাণ হলে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় যেতে আর ফেরির প্রয়োজন হবে না। বরিশাল থেকে ১১৫ কিলোমিটার দূরত্বের এ পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের যেতে আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না।

এছাড়া লেবুখালী শেখ হাসিনা সেনানিবাস, পায়রা কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুেকন্দ্র, মহিপুরের তুলাতলি সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত, পায়রা সমুদ্র বন্দর সংলগ্ন ফোরলেন রাস্তা, পটুয়াখালীর খলিসাখালী ৩২০ মেগাওয়াট তেলভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র, বরগুনার তালতলী তাপ বিদ্যুেকন্দ্র, রাঙ্গাবালী জাহাজভাঙ্গা শিল্প এবং একনেকে অনুমোদন হওয়া পটুয়াখালী বিমানবন্দর, কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, পটুয়াখালী-মির্জাগঞ্জ পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির দ্বার উন্মোচন হবে। এসব প্রকল্প চলমান থাকায় ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের দুই পাশে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। পায়রা বন্দর, সাগরকন্যা কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী থেকে    বিনিয়োগকারীরা সড়কের দুই পাশে গড়ছেন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। তবে এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি অচিরেই বিভাগে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন এবং বাইপাস সড়কের দাবি জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদসহ সচেতন নাগরিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। 

কুয়াকাটা ইনভেস্টর ফোরামের মুখপাত্র হাসানুল ইকবাল সাংবাদিকদের জানান, পদ্মা ও পায়রা সেতুর কাজ শুরুর পর থেকেই কুয়াকাটার ব্যবসায়ীরা নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করেন। অনেকেই সেখানে জমি কিনে রেখেছেন। এসব স্থানে থ্রি স্টার, ফোর স্টার হোটেল হবে। কুয়াকাটার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার মতো সমুদ্রসৈকত বিশ্বের আর কোথাও নেই। এছাড়া পর্যটকরা চাইলেই এখান থেকে সুন্দরবনসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে আসতে পারেন। তাই পর্যটক বাড়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে তা কাজে লাগাতে চাচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য ও বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান খান জানান, পদ্মা সেতু ও দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে বিনিয়োগ ব্যবস্থার দ্বার খুলে গেছে।

বরিশাল সচেতন নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি সাংবাদিক কাজী আবুল কালাম আজাদ জানান, চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই বরিশালকে গুরুত্ব দিয়ে সেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করার তাগিদ দেন তিনি।