আইন বিভাগে বেআইনি নিয়োগ

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আহসান জোবায়ের, জবি সংবাদদাতা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) আইন অমান্য করে ১১ বছর ধরে চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস। শুধু তাই নয়, পরপর দুই মেয়াদে ডিনের দায়িত্ব পালনের নিয়ম না থাকলেও তিনি আইন ভঙ্গ করে পরপর তিনবার ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর মাঝখানে অন্য একজন দুই বছরের জন্য ডিনের দায়িত্ব পালন করলে চতুর্থবারের মতো পুনরায় তিনি ডিন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। বিভাগে অধ্যাপকের পদ ফাঁকা থাকলেও নিজ বলয় টিকিয়ে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়কে কখনো চাহিদাপত্র দেননি।

‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন (২০০৫) এর ২৪ নং ধারার ২ নং উপধারা ও একই ধারার ৩নং উপধারার ব্যত্যয় ঘটিয়ে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান পদে আছেন সরকার আলী আক্কাস। ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই বর্তমান সময় পর্যন্ত একাধারে ১১ বছর যাবত্ বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে আইন বিভাগে দুইজন সহযোগী অধ্যাপক আছেন কিন্তু তাদের মধ্য থেকে কাউকেই এখন পর্যন্ত পালাক্রমেভিত্তিতে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়নি। সরকার আলী আক্কাস ২০১২ সালের ৯ মে থেকে ২০১৮ সালের ৮ মে পর্যন্ত তিন মেয়াদে ডিনের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে চতুর্থবার তাকে পুনরায় নিয়োগ দিলে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক খ্রীষ্টিন রিচার্ডসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরেন। পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খ্রীষ্টিন রিচার্ডসনকে আইন অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেন। ২০২০ সালের ১৫ জুন খ্রীষ্টিন রিচার্ডসনের মেয়াদ শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের দুই বিভাগে আরো তিন জন সহযোগী অধ্যাপক থাকার পরেও নিয়ম অনুযায়ী তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ না দিয়ে সরকার আলী আক্কাসকে আবারও চতুর্থবারের মতো ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। কারণ রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত চিঠিতেই নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যাপক পদ শূন্য থাকা প্রসঙ্গে বলেন, পদ পূরণ করতে কয়েকবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ আসতে রাজি হননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী যেভাবে বলেছে আমি সেভাবে করেছি। এ ব্যাপারে এর বেশি কথা বলতে রাজি হননি তিনি।