জামালপুরে রোগীর মৃত্যুতে হাসপাতাল ভাঙচুর, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, চিকিৎসকসহ আটক ৮

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪৫

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুর, রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকদের হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ইন্টার্র্নি চিকিৎসকসহ আটজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

মৃত রোগীর নাম করিমন নেছা (৫৫)। তিনি পৌর শহরের ইকবালপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী।

শুক্রবার দুপুরে করিমন নেছা নামে এক নারীকে আহত অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। আহত রোগীকে মহিলা ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অক্সিজেন সাপ্লাই না থাকায় পুনরায় তাকে নিচের তলায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, এ সময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর কাছে আসতে বিলম্ব করায় করিমন নেছা মারা যান। পরে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং চিকিৎসকে লাঞ্ছিত করে।

খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশ স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। স্বজনরা লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ইন্টার্র্নি চিকিৎসকরা মৃত করিমন নেছার মেয়ের জামাই ও সাইদুর রহমান নামের ওপর হামলা চালিয়ে আহত এবং তার সঙ্গে থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একজন চিকিৎসকসহ আটজন ইন্টার্র্নি চিকিৎসককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। 

নিহতের মেয়ের জামাতা সাইদুর রহমানের অভিযোগ, জেনারেল  হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাব ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। 

আরো পড়ুন: ১২ বছর পর ফিরলেন মোমেনা, ফিরে পেলেন না কিছুই

এ বিষয়ে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক চিরঞ্জীব সরকার জানান, রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হতে পারে বলে জানিয়েছি। তারা রোগীকে ওয়ার্ডে নিয়ে যায়। সেই ওয়ার্ডে অক্সিজেন সাপ্লাই না থাকায় স্বজনরা রোগীকে আবার নিচে নিয়ে এসে হট্টগোল শুরু করে। পরে আমি বাইরে বের হয়ে রোগীকে দেখি। এসময় রোগীর স্বজনরা জরুরি বিভাগের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ও আমাকে লাঞ্ছিত করে।

এ ব্যাপারে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.রেজাউল করিম খান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হাসপাতাল চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসি