হতদরিদ্র রিকশাচালক জীবন মিয়াকে পিটিয়ে জখম করার এক মাস ২৫ দিন পর তার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে নিজের বাড়িতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে বাড়িতে আনা হয়। পুলিশ দুপুরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করে। রিয়া মনি (২) ও রেখা আক্তার (১৬) ছাড়াও জীবন মিয়ার আরো এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।
ছোট্ট রিয়া মনি জানে না যে, তার বাবা আর কখনোই ফিরবে না। বাবা হত্যার বিচার চেয়ে রেখা আক্তার বলেন, ‘আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেন, আমার বাবা কোনো দোষ করেনি। তারা আমার বাবাকে কেন মারল?’
বাড়ির উঠানে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন স্ত্রী নাজমা বেগম। তিনি কান্না থামিয়ে বলেন, ‘আমার স্বামীকে তারা মেরে ফেলেছে। জানি এ হত্যার বিচার হবে না। তবুও আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার মরিচাকান্দা গ্রামের অটোরিকশাচালক জীবন মিয়া পান্নারপুল বাসস্ট্যান্ডে বাখরাবাদ এলাকার এক যাত্রীর নিকট ১৫০ টাকা ভাড়া চান। এর আগে আরেক সিএনজি অটোরিকশাচালক আনোয়ার ঐ যাত্রীর কাছে ভাড়া চান ৪০০ টাকা। জীবন মিয়া ১৫০ টাকা ভাড়া চাওয়ায় এ নিয়ে আনোয়ারের সঙ্গে জীবন মিয়ার হাতাহাতি হয়। পরে জীবন মিয়া রাতে মরিচাকান্দা নিজের বাড়ি যাওয়ার পথে তাকে আটক করে বেধড়ক লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে ডান পা ভেঙে ফেলা হয়। তার চিত্কারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনার পর আনোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানায়, অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসী আনোয়ারকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তারা দীর্ঘদিন ধরে পান্নারপুল স্ট্যান্ড এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। যখন তখন মানুষকে মারধর করে। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলে না। অটোরিকশা, ট্রাক থেকে চাঁদা তুলে। চাঁদা না দিলে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে চাবি আটকে রাখে। খাল দখল, জায়গা দখল, স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যে, তারা করে না।
এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, জীবন মিয়াকে মারধরের ঘটনায় আগে মামলা হয়েছে।
