যুক্তরাষ্ট্রে চিকিত্সায়ও বর্ণবাদের শিকার কৃষ্ণাঙ্গ চিকিত্সক

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:২৯

করোনার চিকিত্সাতেও বর্ণবাদ যুক্তরাষ্ট্রে। এই বর্ণবাদের শিকার এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী চিকিত্সকের হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। ইন্ডিয়ানায় কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা চিকিত্সক সুসান মুর করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন, তাকে চিকিত্সা পেতে ভিক্ষা করতে হচ্ছে। তার শ্বেতাঙ্গ চিকিত্সক তাকে ছুঁয়েও দেখছেন না। কোনো কথা শুনছেন না। সুসান মুর রবিবার মারা গেছেন। খবর ডয়চেভেলের

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, রোগীর চিকিত্সার ক্ষেত্রে পক্ষপাতের ঘটনাকে তারা খুবই গুরুত্ব দেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নিয়ে তারা কিছু বলবেন না। সুসান জানিয়েছিলেন, বার বার ব্যথা হওয়া সত্ত্বেও তিনি চিকিত্সা পাননি। হাসপাতালের চিকিত্সক সেসব আমলেই দেননি। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন। কিন্তু ঐ শ্বেতাঙ্গ চিকিত্সক তার কোনো শারীরিক পরীক্ষা করেননি।

সুসানের ছেলের বয়স ১৯ বছর। তার বাবা-মাও অসুস্থ। তার ও পরিবারের খরচ চালাবার জন্য ‘গো-ফান্ড-মি’ বলে সামাজিক মাধ্যমে একটি পেজ তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে ১ লাখ ২ হাজার ডলারের সাহায্য এসেছে। গত ২৯ নভেম্বর তার করোনা ধরা পড়ে। তখন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুসানের জ্বর ছিল। কাশির সঙ্গে রক্ত উঠছিল। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তিনি নিজে চিকিত্সক হওয়া সত্ত্বেও হাসপাতালে চিকিত্সা পেতে বেগ পেতে হয়েছিল।

সুসান জানিয়েছিলেন, তার ফুসফুসের স্ক্যান করা ও ওষুধ পেতে রীতিমতো ভিক্ষা করতে হয়েছিল। শ্বেতাঙ্গ চিকিত্সক এমন ভাব দেখাচ্ছিলেন যেন তিনি মাদকাসক্ত। অথচ তিনি জানতেন, সুসানও একজন চিকিত্সক এবং মাদক নেন না। তখন তিনি মেডিক্যাল আইনজীবীকে লেখেন, তাকে ঐ হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে অন্যত্র ভর্তি করার জন্য। তাকে ডিসচার্জ করা হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবার ভর্তি করতে হয়। কারণ, তার শরীরের অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সুসান জানিয়েছিলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, আমার গায়ের রঙ সাদা হলে আমাকে এই কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হতো না। এই ব্যবহার পেতে হতো না।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ নিয়ে যত আন্দোলনই হোক না কেন, আমেরিকা বদলায়নি।