পুলিশি নির্যাতনে ‘হত্যার’ অভিযোগ এনে বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৩০

নওগাঁ সদরের মুন্সিপাড়ায় পুলিশি নির্যাতনে নরেশ চন্দ্র্র দাস নামে একজনকে হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার নরেশ দাসের নিজ বাড়িতে স্ত্রী রিতা রানীসহ পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ করেন। হত্যার অভিযোগে নওগাঁ সদর থানার (বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানায় কর্মরত) এএসআই মাসুদ রানা এবং অজ্ঞাত আরো দুই জনের বিরুদ্ধে নওগাঁ আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। আদালতের বিচারক পিবিআইকে এ মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। নওগাঁ পিবিআইর পুলিশ সুপার নাইমুল হাসান জানান, ‘এ ঘটনায় এখনো কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। পেলে সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এএসআই মাসুদ রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নরেশ দাসকে কখনো আমি দেখি নাই।’ নওগাঁ সদর থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন জানান, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় তাকে আটক করা হয়। সেসময় নরেশ দাস অসুস্থ হয়ে পড়লে চলে আসে পুলিশ সদস্যরা। এরপর বিভিন্ন অভিযোগ উঠলে তার ময়নাতদন্ত করা হয়।’

নরেশের স্ত্রী রিতা বলেন, ‘বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নরেশ চন্দ্র্র দাসের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন এএসআই মাসুদ রানা। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৭ মে এএসআই মাসুদ রানা মোবাইলে নরেশকে দেখা করতে বলেন। দেখা না করায় এএসআই মাসুদ রানা এবং অজ্ঞাতপরিচয় দুই জন এসে বাড়ি থেকে তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যান। এরপর বুকে-পিঠে আঘাত ও মারপিট করে হ্যান্ডকাপ খুলে নরেশ দাসকে রাস্তায় ফেলে চলে যান। পরে রাতেই নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আদালতে মামলা করা হয়েছে। তিনি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।’