আবাহনীতে বেলফোর্ট লেমসদের বড়দিন

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪৪

স্পোর্টস রিপোর্টার

ফেডারেশন কাপ ফুটবলে গত বৃস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আবাহনী ৩-০ গোলে হারিয়েছে মোহমেডানকে। ফেডারেশন কাপের জয় আবাহনীর বিদেশি ফুটবলারদের মধ্যে অন্যরকম একটি আনন্দ এনে দিয়েছে। বড়দিনের আগের রাতে ক্লাব ফুটবলের এমন জয়ে আবাহনীর বিদেশি ফুটবলাররা মনে করছেন বড়দিনেরই আশীর্বাদ। দারুণ সুন্দর ফুটবল উপহার দিয়েছেন আবাহনীর খেলোয়াড়েরা। ম্যাচের পরদিন খেলোয়াড়দের বিশ্রামে থাকার কথা। গতকাল আবাহনী মাঠে গিয়ে দেখা গেল, খেলোয়াড়েরা পুরো অনুশীলনে ঘাম ঝরাচ্ছেন। মোহামেডানের বিপক্ষে যারা ম্যাচ খেলেছেন তারা এক পাশে, অন্য পাশে রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলাররা। আরেক পাশে গোলকিপার সোহেল, সুলতানরা মিলে অনুশীলন করছিলেন। দূরে দাঁড়িয়ে সাবেক ফুটবলার আলমগীর। লম্বা থ্রো করতেন, ৯০ দশকে খেলেছেন। তার লম্বা থ্রো এখনো মনে আছে সবার। মোহামেডানের বিপক্ষে উইংব্যাক রায়হান হাসানের থ্রো মোহামেডানকে কুপোকাত করে দিয়েছে।

করোনার কারণে পৃথিবী জুড়ে এবার ভিন্ন আঙ্গিকে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের উত্সব বড়দিন পালিত হয়েছে। ক্রিসমাসে প্রার্থনালয়ে সবার একটাই চাওয়া—করোনা থেকে মুক্তি পাক পৃথিবীর মানুষ। এমন একটা কঠিন সময় পার করছে, যখন ঘরের মানুষ বাইরে এলেও দূরত্ব বজায় রাখতে হয়। অবস্থান দূরে হলেও মনের মধ্যে দূরত্ব ছিল না। বড়দিনের আনন্দ সংকুচিত করেও উপভোগ করেছে দেশের ফুটবল অঙ্গন। বিশেষ করে যেসব ক্লাবে বিদেশি ফুটবলার রয়েছেন, তাদের জন্য আনন্দের দিন গেছে অনেকটাই নীরবে। আবাহনীর দিকে বাড়তি নজর ছিল সংবাদমাধ্যমের।

বড় ম্যাচ জেতার পরও আবাহনীর খেলোয়াড়েরা অনুশীলন করেছেন। মাঠে নামার আগে ক্লাব টেন্টে বড়দিনের উত্সব করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ফ্রান্সিসকো রড্রিগেজ ডি সুজা, হাইতির বেলফোর্ট, দলের পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস। তাদের জন্য দুটি কেক আনা হয়। বড়দিনের উত্সব ছোট করে রাঙিয়ে দিতে ক্লাব থেকে এই আয়োজন। এমন আনন্দে দলের অন্যরা কি বসে থাকবেন? টেবিলের ওপরে কেক রাখার সঙ্গে সঙ্গে ওয়ালী ফয়সাল, মাসিহ সাইঘানি, রুবেল মিয়া, নাসির চৌধুরী, সোহেলরা  আনন্দে মেতে উঠলেন। বিদেশি ফুটবলারদের আরো একবার শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করলেন।

কোচ মারিও লেমস জানালেন, তার খুবই ভালো লাগছে। আগের ম্যাচ খেলে গতকাল আবার মাঠে নামলেও ক্লাব থেকে কেক কাটার উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। হাইতির ফরোয়ার্ড বেলফোর্ট বললেন, ‘পরিবার দূরে আছে। তার পরও এখানে যে আয়োজনটা হলো, তা আমি উপভোগ করছি।’

সবার মন ভালো লাগলেও মন খারাপ ব্রাজিলয়ান ফ্রান্সিসকো রড্রিগেজ ডি সুজার। বললেন, ‘আমার পরিবার ব্রাজিলে অবস্থান করছে। এক বছরের সন্তান রয়েছে। ওর কথা খুব মনে হচ্ছে। রেখে চলে এসেছি বাংলাদেশে। তার পরও এটাই পেশাদারিত্বের নিয়ম। আমি পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছি। নিজের সন্তানকে দেখার পর মনটা ভালো লেগেছে।’ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিদেশি খেলোয়াড়েরাও কাল দুপুরে বড়দিন পালন করলেন।