উত্তমাশা অন্তরীপ

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৪৫

উত্তমাশা অন্তরীপ শব্দগুলো পাঠ্য বইয়ে পড়েছিলাম স্কুলে। অর্থ বুঝিনি, মুখস্থ হয়ে রয়েছে সারাজীবন। শৈশবে পড়া অনেক কিছু বিশেষত সম্পূর্ণ নতুন বিষয় কিংবা ভালো লাগার বিষয় মুখস্থ থেকে যায় সারাজীবন। উত্তমাশা অন্তরীপের সঙ্গে জগদিবখ্যাত নাবিক ভাস্কো দা গামার নামটি স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। ভাস্কো দা গামা উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান ২ মে ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে। গত ২০-২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্রমণের সুযোগ পাওয়ায় Cape of Good Hope, Cape Town দেখার সুযোগ পেয়ে যাই। উত্তমাশা অন্তরীপ বা Cape of Good Hope-এর কথা বারবার শুনেছি। এবার দেখার সুযোগ পাওয়ায় অসীম আনন্দ অনুভব করি। সরকারি কাজের শেষে কেপ টাউন ও ডারবানের বহু আকর্ষণীয় স্থাপনা দেখার এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা ঝুলিতে জমা হয়। কেপ টাউন বন্দর, পোর্ট এলিজাবেথ, ডারবান পোর্ট পরিদর্শন শেষে আমরা কেপ টাউনের ও ডারবানের আকর্ষণীয় স্থানসমূহ ঘুরে ঘুরে দেখি। আমি ছাড়াও এই প্রতিনিধি দলে পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষের তিন পদস্থ কর্মকর্তা, নেদারল্যান্ডের Royal HasKoning DHV-এর দুই জন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমাদের গাড়ির চালক ছিলেন সালেগ পেটারসন ও রফিক জ্যাকভ। ভালোমতো গাড়ি চালানোর পাশাপাশি গাইড হিসেবেও তারা স্মরণীয় দায়িত্ব পালন করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস ও পর্যটন আকর্ষণ সম্পর্কে তাদের ধারণা চমত্কার। সেটিও ছিল আমাদের আনন্দময় ভ্রমণের জন্য খুবই সহায়ক।

উত্তমাশা অন্তরীপ বলতে কী বুঝায় : অন্তরীপ হচ্ছে ভূপৃষ্ঠের কোনো অংশ ক্রমশ সরু হয়ে জল অংশে সাধারণত সাগরে প্রবেশ করলে সেই সংকীর্ণ অংশকে অন্তরীপ বলা হয়। তিন দিকে জল এক দিকে স্থল। পর্তুগিজ অভিযাত্রী বার্থোলোমিউ ডিয়াজ ১৪৮৮ সালে প্রথম কেপ এলাকায় পৌঁছান। এই পাথুরে অন্তরীপটির নাম দেন Cape of Good Storms। পর্তুগালের শাসক দ্বিতীয় জন তার নাম পরিবর্তন করে Cape of Good Hope রাখেন। যার বাংলা অর্থ উত্তমাশা অন্তরীপ। সন্ধি বিচ্ছেদ করলে দাঁড়ায় উত্তম+আশা= উত্তমাশা। আফ্রিকান ভাষায় এর নাম Kaap Die Gioeie Hoop, ডাচ ভাষায় Kaap de Goede hoop, পর্তুগিজ ভাষায় Cabo Da Boa Esperanca।

দ্বিতীয় জন এই সমুদ্রপথটিতে ভারত ও দূরপ্রাচ্যের সঙ্গে ইউরোপের ব্যবসায়-বাণিজ্য প্রসারের মাধ্যমে নতুন আশা দেখেছিলেন। তাই Cape of Good Hope-এর নামকরণে সেই আশার প্রতিফলন দেখা যায়। উত্তাল আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব উপকূল ঘেষে বিপত্সংকুল বিক্ষুব্ধ সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিশেষ করে Cape of Good Hope অতিক্রম করে পতুর্গিজ নাবিকরা ভারত মহাসাগর হয়ে ভারত ও দূরপ্রাচ্যে পাড়ি জমান। আফ্রিকা, ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশের সর্ব দক্ষিণের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। আর দক্ষিণ আফ্রিকার সর্ব দক্ষিণে ১৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্ব দিকে Cape of Good Agulhas অবস্থিত। Cape Agulhas-এর বিশেষত্ব হলো আটলান্টিক মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের সে াত এখানে মিলিত হয়। আটলান্টিক মহাসাগরের পানি গভীর নীল ও ঠান্ডা। ভারত মহাসাগরের পানি কেপ এলাকায় সবুজ ও উষ্ণ। পূর্বে ভুল ধারণা ছিল যে Cape of Good Hope আফ্রিকার সর্বদক্ষিণে এবং এখানেই দুই মহাসাগরের সংযোগস্থল। আরব বণিকরা ভারত, সিংহল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে মনিমুক্তা, রেশম ও সুগন্ধি মশলা সংগ্রহ করে ভূমধ্যসাগরের বন্দরগুলোতে বিক্রয় করত। ইটালির বণিকরা এসব পণ্য ইউরোপের বাজারে চালান করেন।

১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দে অটোমান তুর্কিদের হাতে কনস্টান্টিনোপলের অর্থাত্ রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটলে প্রাচ্যের দেশগুলোতে যাতায়াতের একমাত্র স্থলপথটি ইউরোপীয়দের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। তখন ইউরোপের কাছে নতুন জলপথের অনুসন্ধান জরুরি হয়ে পড়ে। পর্তুগিজ নাবিকগণ নতুন জলপথ ও নতুন দেশ আবিষ্কারে সব সময়েই অগ্রণী ভূমিকা রাখে। পর্তুগালের যুবরাজ হেনারি (১৩৯৪-১৪৬০) স্মরণীয় এই কারণে যে, তিনি নতুন নৌ-যন্ত্রপাতি ও দিকনির্ণয় যন্ত্রপাতি আবিষ্কারে সহায়ক ভূমিকা রাখেন। বিশাল আকৃতির পাথরে পাথরে গাঁথা প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট এই পর্বত Cape of Good Hope-এর চূড়ায় পায়ে হেঁটে ওঠা প্রায় দুঃসাধ্য। ছোট আকারের Aerial Cable Way রয়েছে। এর এক কামরায় ভর করে আমরা চূড়ায় উঠলাম। দুচোখ মেলে তাকাতেই পশ্চিম-দক্ষিণ দিকে আটলান্টিক মহাসাগরের বিস্তৃত নীল জলরাশি। মুহূর্তে মুহূর্তে একের পর এক নীল ঢেউ আঘাত হানছে Cape Point-এর পাথরে পর্বতে। আর পূর্ব-দক্ষিণ দিকে ভারত মহাসাগরের সবুজ ও উষ্ণ জলরাশি। দুই মহাসমুদ্রের তিন দিকে দিগন্তবিস্তৃত জলের সঙ্গে জলের খেলা, জলের মিলন ও গর্জনে হূদয় তখন রোমাঞ্চিত। চোখে এক অজানা শান্তির পরশ। এই Cape of Good Hope চূড়ার ওপর থেকে পৃথিবীর বড় বড় শহর—যথা নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, সিডনি, টরেন্টোর দিক নির্দেশক চিহ্ন ও দূরত্ব দেওয়া রয়েছে। আমরা যখন কেপের চূড়ায় আমাদের গাড়িচালক রফিক জ্যাকভ আটলান্টিকের দিকে তাকিয়ে জানায় ঐ পাশের দেশ ব্রাজিল আর দক্ষিণে আফ্রিকা এক ভূখণ্ডে ছিল। আটলান্টিকের জন্মের মধ্য দিয়ে দুই দেশ দুই পাড়ে পড়ে যায়।

Cape Point Light House : Cape Point-এ দাঁড়িয়ে দুই মহাসাগরের জলের কল্লোল এবং দিগন্তবিস্তৃত নীল জলের খেলা দেখা শেষে আমরা বাতিঘর দেখতে যাই। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৩৮ মিটার উচ্চতায় Cape Point-এ ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাতিঘর প্রথম নির্মাণ করা হয়। এই বাতিঘরটি ১৮৬০ সালের ১ মে তারিখ থেকে আলোক বিচ্ছুরণ শুরু করে। তখন ২ হাজার মোমবাতির আলোর শক্তি নিয়ে ১২ সেকেন্ড ধরে আলোক বিচ্ছুরণ করে। সমুদ্র পথে জাহাজ এই বাতিঘরের আলোক নির্দেশ পেয়ে চলাচলে সহায়তা পায়। পরবর্তিতে ১৯৩৬ সালে অপর একটি বাতিঘর নির্মিত হয়। এই বাতিঘরটির ক্ষমতা ১৯ মি. ক্যান্ডেল পাওয়ার। Cape of Good Hope অন্য তিনটি কারণে গূরুত্বপূর্ণ। ইহা Table Mountain National Park-এর অংশ। Cape Peninsula তে ডাচরা ১৬৫২ খ্রিষ্টাব্দে কেপ উপনিবেশ স্থাপন করে যা কেপের পরিচিতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেড়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পূর্বে ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে এই এলাকা Cape of Good Hope Provinee সংক্ষেপে Cape Provinee হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। দুই মহাসাগরে উত্তাল পথে জাহাজ চলাচলে বাতিঘরটি গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উত্তমাশা অন্তরীপ ও ভাস্কো দা গামা : পৃথিবী বিখ্যাত এই পর্তুগিজ নাবিক প্রথম ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন। ১৪৯৭ খ্রিষ্টাব্দে গামা পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে যাত্রা করে উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে ভারতের কেরালা উপকূলে কালিকট বন্দরে ১৪৯৮ সালের ২০ মে উপস্থিত হন। তিনি ভারত থেকে জাহাজ ভরে মসলা ও মূল্যবান দ্রব্যাদি সঙ্গে নিয়ে ফিরে যান। এই পথ ধরেই পরবর্তীকালে ওলন্দাজ, ফরাসি ও ইংরেজ বণিকরা ভারতে আসে। ১৫০২ খ্রিষ্টাব্দে ভাস্কো দা গামা দ্বিতীয় বার কালিকট বন্দরে আসেন। ভারতের কোচিনে বাণিজ্যকুটি স্থাপন করে। পর্তুগিজ পর্যটক ও নাবিক ভাস্কো দা গামা পঞ্চদশ শতাব্দীতে সমুদ্রপথে ইউরোপ থেকে ভারতে আসায় ইউরোপের সঙ্গে এশিয়া ও ভারতের ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। ইউরোপের সংস্কৃতি ভারতে আসে। তারই পথ ধরে ইউরোপের অন্যান্য জাতি ভারতে আসা শুরু করেন। সাম্রাজ্যবাদের প্রসার ঘটে। ১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের গভর্নর হিসেবে ভাইসরয় উপাধিতে তাকে নিযুক্ত করা হয়।

প্রাণিকুল ও উদ্ভিজ্জগত্ (Flora and Fauna) : কেপ টাউনের প্রাণিকূল ও উদ্ভিজ্জগত্ খুবই বৈচিত্র্যপূর্ণ। এ সময়ে আমরা পেংগুইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও বিচিত্র ফুল ও বৃক্ষরাজি অবলোকন করি। মাথা উঁচু করে বীরদর্পে দণ্ডায়মান সদা জাগ্রত বিশালাকৃতির ও বহু বিস্তৃত শৈল পর্বত যার তীরভূমি মিশে গেছে মহাসাগরে। পর্বতের কোল ঘেঁষে ও পাদদেশে প্রায় ২৫০ প্রজাতির পাখির অভয় অরণ্য। আফ্রিকান পেংগুইনের প্রধান আবাসভূমি এই কেপ টাউনে। প্রোটিয়া ও ইরিকেটস ফুল প্রস্ফুটিত হয়, ভ্রমর গুঞ্জরিয়া সুমিষ্ট মধু সংগ্রহ করে। তাছাড়া উপকূল জুড়ে জেব্রা ও সমুদ্রে সিল, ডলফিন ও তিমির অবগাহন মন জুড়ায়ে যায়। সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষায় আইন কঠোরভাবে প্রযোজ্য। Chacma baboons, বড় আকারের বানর কেপে আসা পর্যটকদের বড় আকর্ষণ। এক সময় কালো কেশর সিংহ এখানে দেখা যেত। অস্ট্রিচের রাজসিক আনাগোনাও কেপ এলাকায় দৃশ্যমান।

ধ্যানমগ্ন শৈল পর্বত, মহাসাগরে কলরোল, গাঙচিলের ঝাঁপাঝাঁপি : কেপ টাউন মূলত শিলাময় পর্বতের পাদদেশে বিস্তৃত শহর। পর্বত কেটে কেটে নির্মিত হয়েছে রাস্তা, বাড়িঘর, আবকাশ কেন্দ্র। সমুদ্র যেখানে শেষ সেখানেই শিলাময় পর্বত। সমুদ্রের তীর ঘেঁষে পর্বতের কিছু অংশ কেটে নির্মিত হয়েছে রাস্তা। শত শত কিলোমিটার জুড়ে এই রাস্তা। ভ্রমণ পিপাসু মানুষ রাজপথে গাড়িতে চলতে চলতে সমুদ্রের গর্জন, গাঙচিলের সমুদ্রবক্ষে ঝাঁপাঝাঁপি দেখে কখনো বা পেংগুইনের চিত্কার শুনে আর পর্বতের বিশালতা দেখে দেখে প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টির মধ্যে খুঁজে পান এক অপার আনন্দ।

কেপ টাউনে ইসলাম, মসজিদ নির্মাণ ও মুসলিম কমিউনিটি : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার জুম্মাবার হওয়ায় জুম্মার নামাজ আদায়ে শহরের নূরুল ইসলাম মসজিদে যাই এবং আমরা জুম্মার নামাজ আদায় করি। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য মুসল্লির সঙ্গে ভাব বিনিময় হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার জনসংখ্যা ৫ কোটি ৮৭ লাখ ৭৫ হাজার। আয়তন ১২.২ লাখ বর্গকিলোমিটার। মুসলিম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সংখ্যার দিক দিয়ে মুসলিমরা সংখ্যালঘু হলেও ইসলাম দ্রুত ধাবমান। মূলত ইন্দোনেশিয়া, মালয়, ভারত থেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়া আলেম-উলেমা যারা ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তাদেরকে আটক করে Cape-এ অন্তরীণ করে রাখা হয়। তারাই ইসলামের সূত্রপাত করেন।

উত্তমাশা অন্তরীপের ক্যাসেল : ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ডাচরা দুর্গের পরিবর্তে কেপ অব গুড হোপের ক্যাসেল নির্মাণ করেন। ১৩ বছর সময় ধরে ক্যাসেলটি র্নিমাণ করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ইংরেজ বা অন্যান্য ইউরোপীয় জাতির আক্রমণ থেকে নতুন বসতিকে রক্ষা করা। এই ক্যাসেলটি উপনিবেশের প্রাচীনতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ১৯৩৬ সালে জাতীয় মনুমেন্ট হিসেবে ইহা স্বীকৃতি লাভ করে। ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে কেপে বসতি গড়ার মধ্য দিয়েই কেপ টাউনের শুরু। এই ক্যাসেল থেকে কেপ টাউনের প্রশাসন পরিচালনা হতো। কেপ টাউনের প্রথম চারটি স্ট্রিট যথা স্ট্রান্ড স্ট্রিট, ক্যাসল স্ট্রিট, শর্ট মার্কেট স্ট্রিট, লং মার্কেট স্ট্রিট এখনো বিদ্যমান আছে। ক্যাসেলে হাজতিদের আটকে রেখে নির্যাতন করার জন্য ছিল Dark Hole বা অন্ধকার কূপ। তখনকার আইন অনুযায়ী দোষ স্বীকার না করলে অপরাধীরা শাস্তি পেত না, তাদেরকে নির্যাতন করার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়। ১৬৯১ খ্রিষ্টাব্দে সেটেলমেন্টের কমান্ডার পদ পরিবর্তন করে গভর্নর করা হয়।

ইংরেজ উপনিবেশ : ডাচ ও ফরাসিদের পর ইংরেজরা কেপে পরবর্তী বসতি স্থাপনকারী। প্রকৃতপক্ষে ডাচরা নয়, ইংরেজরা কেপে স্থায়ী বসতি স্থাপনের চিন্তা করে ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে। ব্রিটিশ শাসন দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতি রাজনীতি ও সমাজকে পরিবর্তন করে। শিল্পবিপ্লব-উত্তর ব্রিটিশ অর্থনীতি ক্ষমতাধর, যার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বাজার যুক্ত হয়। ব্রিটিশরাই কেপে দাস প্রথা বন্ধ করে মুক্ত শ্রমিক ব্যবস্থা এবং মুক্তবাণিজ্য চালু করে। আদিবাসীদের মধ্যে খ্রিষ্টধর্ম চালুর জন্য মিশনারিদের আগমন ঘটায়। ১৮১২ খ্রিষ্টাব্দে নতুন ব্রিটিশ গভর্নর স্যার জন ক্রাডক কর্তৃক ব্রিটিশ, ডাচ ও খই খই সেনাবাহিনী কর্নেল জন গ্রাহামের নেতৃত্বে প্রেরণ করে ২০ হাজার জোলা জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করা হয়। তাদের জমি ও গবাদি পশু দখল করে নেয়। এখানে সামরিক আউট পোস্ট স্থাপন করা হয় যা এখন গ্রাহাম টাউন হিসাবে পরিচিত।

 

লেখক : সিনিয়র সচিব (পিআরএল), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়,

চেয়ারপারসন, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)।