দুবলার চর সুন্দরবনের বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ—হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যস্নান, রাসমেলা এবং শুঁটকি উত্পাদনের জন্য বহুল পরিচিত। দ্বীপটি সুন্দরবনের দক্ষিণে, কটকার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং হিরণ পয়েন্টের দক্ষিণ-পূর্বে কঙ্গা এবং মরা পশুর নদের মাঝে অবস্থিত। দুবলার চর মূলত একটি জেলেপল্লি। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বাগেরহাট, পিরোজপুর, খুলনা এবং সাতক্ষীরা থেকে আসা জেলেরা বর্ষা মৌসুমের শেষে চার থেকে পাঁচ মাস দুবলার চরে অস্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন। এই চার-পাঁচ মাস তাঁরা গভীর সমুদ্র থেকে মত্স আহরণ এবং সংগৃহীত মাছ থেকে শুঁটকি তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন। দুবলার চরের মেহের আলীর খাল, আলোরকোল, মাঝের চর, অফিসকেল্লা, নাড়িকেলবাড়িয়া, মানিকখালী, শ্যালারচর ইত্যাদি এলাকায় এসব জেলেপল্লি স্থাপিত হয়। এই চর থেকে আহরিত শুঁটকি চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জের পাইকারী বাজারে মজুদ ও বিক্রি করা হয়। দুবলার চরের শুঁটকির সুনাম সারা দেশে, কারণ এখানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়ে থাকে এবং কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। এই চরটি থেকে সরকার নিয়মিত হারে রাজস্বও পেয়ে থাকে।
প্রতি বছর কার্তিক মাসে (নভেম্বর) দুবলার চরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রাসমেলা এবং পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা দাবি করে থাকেন, প্রায় ২০০ বছর ধরে নিয়মিতভাবে রাসমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। জানা যায়, ১৯২৩ সালে হরিচাদ ঠাকুরের বনবাসী ভক্ত হরিভজন এই মেলার সূচনা করেন। অসংখ্য পুণ্যার্থী রাসপূর্ণিমাকে উপলক্ষ্য করে দুবলার চরে সমুদ্রস্নান করতে আসেন। রাসমেলায় স্থানীয় লোকজন ছাড়াও দূর-দূরান্তের মানুষজন এবং বিদেশি পর্যটকেরাও অংশ নিয়ে থাকেন।
দুবলার চরে প্রায়শই হরিণের দেখা মেলে। হরিণ ছাড়াও মাছরাঙা, মদনটাক, লাল কাঁকড়া ও বন্য শূকরসহ সুন্দরবনের প্রাণীবৈচিত্র্যের সমাগম ঘটে।
