ইত্তেফাক ডেস্ক
উত্তর জনপদে শীতের তীব্রতা আজ থেকে আরো বাড়বে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই জনপদে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শীতলবায়ু প্রবাহ সক্রিয় থাকায় শনিবার থেকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির আভাষ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, দিনাজপুরে গত কয়েক দিন থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই উঠানামা করছে। গতকাল শনিবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দেশের সর্বোত্তরের উপজেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি জানান, আগামী ২৭ অথবা ২৮ ডিসেম্বর থেকে এই অঞ্চলে আরো একটি মৃদু অথবা মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কুয়াশার তেমন প্রভাব না থাকায় দিনের বেলা সূর্যের আলো দেখা গেলেও শীতের তীব্রতা বেশ বেড়ে যাবে বলে জানান তিনি। এদিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম জানান, দিনাজপুর জেলায় ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার থেকে প্রাপ্ত ৫১ হাজার ৬০০ শীতবস্ত্র প্রতিটি উপজেলার অসহায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ জেলার অসহায় শীতার্ত মানুষের শীত মোকাবিলায় আরো ১ লাখ শীতবস্ত্র চেয়ে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে জরুরি বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে।
সৈয়দপুরে ঠান্ডায় জবুথবু মানুষ
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, সৈয়দপুরে তীব্র শীত, কুয়াশার কারণে মানুষ জবুথবু হয়ে পড়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বাইরে বের হচ্ছে না। বেশির ভাগ লোক রাতে ও ভোররাতে আগুনের কুণ্ডলি বানিয়ে শীত নিবারণ করছেন। সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ছে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচলে প্রায় বিঘ্ন ঘটছে।
রাজারহাটে কনকনে ঠান্ডা
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, তীব্র শীত ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা হয়ে পড়েছে বাজার ও রাস্তাঘাট। রাজারহাট আবহাওয়া অফিস জানায় কয়েক দিন ধরে তাপমাত্র ৯-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠামানা করলেও শনিবার উপজেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাজারহাট উপজেলার আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, এ অবস্থা আরো কয়েক দিন চলবে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর তাসনিম বলেন, সরকারিভাবে উপজেলায় হতদরিদ্র্য মানুষের মধ্যে ৩২০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬ লাখ টাকার কম্বল বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
