গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে ফেডকাপে অভিযান শুরু করেছিল মোহামেডান। কাল ছিল মোহামেডানের বাঁচা-মরার লড়াই। মোহামেডান ৪-১ গোলে মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শেষ আটের সম্ভাবনা জাগিয়ে রাখল। আগামী বুধবার আবাহনী ও মুক্তিযোদ্ধা ম্যাচ ড্র হলে মোহামেডান এবং আবাহনী দুই দলই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাবে। আর যদি আবাহনীর বিপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা জয় পায় তাহলে গোল গড়ের হিসাব নির্ধারণ হবে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার হিসাব। সাদাচোখে মনে হচ্ছে না শক্তিশালী আবাহনীর বিপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা বেশি কিছু ঘটিয়ে ফেলবে, যদি অলৌকিক কিছু না হয়।
মোহামেডান সাংগঠনিকভাবে কিছুটা শক্তিশালী হলেও মুক্তিযোদ্ধার বেলায় সেটা নেই। এখনো নানা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। তার পরও দলটাকে গুছিয়ে কাল প্রথম ম্যাচ খেলল। গোল হজম করে দ্বিতীয়ার্ধে সমতা এনেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মোহামেডান পুরো মাঠের দখল নেয়। মোহামেডানের হাবিবুর রহমান সোহাগ একাধিক সুযোগ নষ্ট করার পর ৪২ মিনিটে সেটপিস থেকে দেখার মতো গোল করেছেন। সেটপিসের ভাসতে ভাসতে বল মুক্তিযোদ্ধার জালে জড়ায় ১-০। ৫৪ দ্বিতীয়ার্ধে মুক্তিযোদ্ধাও দেখার মতো গোল করে পালটা জবাব দেয়। সুজনের ক্রসের বলে উজবেক স্ট্রাইকার আকবরালি খলদারভ নিখুঁত চোখ ধাঁধানো হেডে গোল শোধ দেন ১-১। দর্শক নাচিয়ে দেয় দুই গোল। এই গোলের আগে মুক্তিযোদ্ধা একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করে আফসোসে পুড়েছে। রক্ষণভাগে মুক্তিযোদ্ধার গিনির কামারা, সুজন মিয়া, মেহেদিরা মোহামেডানের আক্রমণ ঠেকাতে দেওয়াল তুলতে পারেননি। নড়বড়ে দেওয়াল ভাঙতে শাহেদ, সোহানুর, নাইজেরিয়ান আবিওয়ালা নুরাত, জাপানি অধিনায়ক উরু নাগাতা, সোহাগদের সঙ্গে ডিফেন্ডার অনিকরা গোল আদায় করেন। নাগাতার হেডের বল অনিক ব্যাকহেড করে গোল করেন ২-১। এরপর ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধা ছিল অসহায় একটি দল।
গোল শোধ করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা আক্রমণের ধার বাড়ালেও উলটো হয়েছে। রক্ষণভাগ আলগা হয়ে যায়। গোল হজম করেছে আরো দুটি। নাইজেরিয়ান আবিওয়ালা নুরাত তিন মিনিট ব্যবধানে দুই গোল করেন ৪-১। মোহামেডানের জয়ে খুশি সাদাকালো সমর্থকরা। এবার হয়ত রাস্তার, মাঝে খেলোয়াড়দের উচ্ছৃঙ্খল সমর্থকের সামনে পড়তে হবে না। আবাহনীর কাছে হেরে যেটা হয়েছিল। ওই হারে দর্শকের যে কষ্ট ছিল সেখানেও কিছুটা প্রলেপ পড়েছে।
