করোনা বিপর্যয়ের বছর ২০২০ ফিরে দেখা বাংলাদেশ ক্রিকেট

বাংলাদেশের বিশ্ব জয়ের বছর

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৩৮

জান-ই-আলম

বছরের সিংহভাগ সময়ই করোনা মহামারির সঙ্গে দিনাতিপাত করেছে গোটা বিশ্ব। করোনার দাপট যখন রমরমা, ২২ গজের ক্রিকেট তখন নির্বাসনে। করোনা থাবা বসানোর আগে ২০২০ সালে যেটুকু ক্রিকেট খেলার ফুরসত মিলেছিল, সেখানে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট।

ক্রিকেট দুনিয়ায় প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ভারতকে হারিয়ে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে আকবর আলীর দল। বিশ্বসেরার মুকুট এনেছিল যুবারা, তবে করোনার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সিনিয়রদের বিচরণ অবশ্য খুব সামান্যই ছিল। দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও চারটি টি-২০ খেলেই বছর শেষ করতে হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলকে।

এ বছর করোনায় স্থগিত হয়েছে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক পাঁচটি সিরিজ। আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপও স্থগিত হয়ে যায়। মার্চে টানা ছয় বছরের অধ্যায়ের ইতি টেনে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করে পাওয়া নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মুক্ত হন সাকিব আল হাসান।

n বিশ্বসেরা আকবর বাহিনী

যুব দলকে ঘিরে বিসিবির আগের দুই বছরের পরিশ্রম, পরিকল্পনার ফসল মিলেছিল বিশ্বকাপে। পচেফস্ট্রুমে ফাইনালে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে দেশকে বিশ্ব জয়ের আনন্দে ভাসায় যুবারা। শরিফুলদের আগুনে বোলিংয়ে ১৭৭ রানে গুটিয়ে ভারতীয় যুবদল। পরে বৃষ্টি আইনে পাওয়া ১৭০ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক সংগ্রাম করেছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক আকবরের অসামান্য ধৈর্যশীল ব্যাটিং ও পারভেজ ইমনদের হার না মানা ইনিংসে ট্রফি জিতে বাংলাদেশ।

n সুখস্মৃতির অবলম্বন

    জিম্বাবুয়ে

বছরের শুরুতে পাকিস্তান সফরে দুটি টি-২০ তে হার, টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরে বিপর্যস্ত ছিল বাংলাদেশ দল। গত দেড় দশকের মতোই ২০২০ সালেও দুঃসময় ভুলতে টাইগারদের অবলম্বন ছিল জিম্বাবুয়ে। ফেব্রুয়ারিতে একমাত্র টেস্টে জয় আসে, ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করেন মুশফিকুর রহিম। ওয়ানডে সিরিজে তামিম ইকবাল, লিটন দাস দুটি করে সেঞ্চুরি করেন। সিলেটে তৃতীয় ওয়ানডেতে লিটন খেলেন ১৪৩ বলে ১৭৬ রানের (১৬ চার, ৮ ছয়) ইনিংস। যা এই বছরে বিশ্ব ক্রিকেটে ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। পরে দুই টি-২০তেও অনায়াসে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।

n অধিনায়ক মাশরাফির বিদায়

জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাই করা সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে অধিনায়কত্ব থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মাশরাফি। দেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়কের নেতৃত্বে ৮৮ ম্যাচে জয়ের হাফ সেঞ্চুরিও পূর্ণ করেছিল বাংলাদেশ।

n সাকিবের ফেরা ও অন্যান্য

আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২৯ অক্টোবর মুক্ত হওয়া সাকিবের প্রত্যাবর্তন হয় বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপে। ব্যাটিংয়ে ১১০ রান করেন ও বোলিংয়ে ৬ উইকেট পান তিনি। শ্বশুর মারা যাওয়ায় ফাইনাল না খেলেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এই অলরাউন্ডার।

বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ায় নারী টি-২০ বিশ্বকাপে সব ম্যাচ হেরে ফিরে আসে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। করোনার থাবায় পাকিস্তানে একটি করে টেস্ট, ওয়ানডে খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। স্থগিত হয়েছে আয়ারল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা সফর, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোম সিরিজও।

n ঘরোয়া ক্রিকেট

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) পঞ্চম শিরোপা জিতেছিল দক্ষিণাঞ্চল। মিরপুরে মধ্যাঞ্চলের হয়ে পূর্বাঞ্চলের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়েন তামিম। অপরাজিত ৩৩৪ রানের (৪২ চার, ৩ ছয়) ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ১৩ বছর পর ভাঙে রকিবুল হাসানের রেকর্ড (৩১৩ রান, ২০০৭)।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু বিপিএল শেষ হয় ১৭ জানুয়ারি। খুলনা টাইগার্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আন্দ্রে রাসেলের রাজশাহী রয়্যালস। মাঠে গড়ায়নি জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের অনেক আসর। এক রাউন্ড পর করোনায় স্থগিত হয় বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। পরে করোনাকালে জৈব সুরক্ষা বলয় তৈরি করে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ, বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপ আয়োজন করে বিসিবি।