নতুন করে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় আর ভ্যাকসিনের অনিশ্চয়তায় আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়টি হয়তো অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। করোনার কারণে এর মধ্যেই চলতি বছর এইচএসসিসহ সব ক্লাসে অটোপ্রমোশন দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। এই মহামারির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা হয়তো পূরণ করা সম্ভব হবে; কিন্তু শিক্ষার যে ক্ষতি হচ্ছে, তা পূরণ করা খুবই কঠিন হবে। আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস থেকে শিক্ষা গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি। এছাড়া সম্প্রতি যে অ্যাসাইনমেন্টের দ্বারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে জড়িত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তা সফল হয়েছে বলা যাবে না। পাঠ্যবই পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখার নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে অধিকাংশই ইউটিউব দেখে উত্তর লিখে খাতাগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দিয়েছে। কাজেই শিক্ষাব্যবস্থাকে রক্ষা করতে হলে, বিষয়-সংখ্যা কমিয়ে সপ্তাহে অন্তত একদিন ক্লাসে যোগদানের ব্যবস্থা করে আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে হবে। আর আগামী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করা উচিত। তাহলে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে থেকেও লেখাপড়া শুরু করতে পারবে। আগামী মার্চ-এপ্রিলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। আশা করি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
বিপ্লব বিশ্বাস
গোয়ালচামট, ফরিদপুর
