জামালপুরে ডাক্তারদের কর্মবিরতি, তদন্ত কমিটি গঠন, দুই জন গ্রেফতার

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৫৬

রোগীর মৃত্যুতে হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর

জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুরের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করেছেন ডাক্তাররা। হামলার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত শনিবার বিকালে উপসচিব পদমর্যাদার এক জনকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঐ তদন্ত কমিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বেই শনিবার রাত ১০টার দিকে জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সদর থানার পুলিশ মৃত রোগীর স্বজন সাইদুর রহমান ও শহিদুল্লাহ নামে দুই জন আসামিকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ (স্বাচিব) ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এর যৌথ ডাকে গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে কর্মবিরতি চলছে। সারা জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ ব্যতীত সব বিভাগের চিকিত্সা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতালের চিকিত্সাসেবা বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন রোগীরা। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, চিকিত্সকের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিতকরণ, হাসপাতালের চিকিত্সক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক নিরাপত্তা প্রদানের দাবিতে চিকিত্সকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে। দাবি না মানা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

জামালপুর সদর থানার ওসি মো. রেজাউল ইসলাম খান বলেন, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান শনিবার রাতে পাঁচ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। দুই জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে পৌর শহরের ইকবালপুর আহলে হাদিস জামে মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা করিমন নেছা (৫৫) নামে এক মহিলা মসজিদের ২য় তলা থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন। আহত করিমনকে তার স্বজনরা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরে সেখানে তিনি মারা যান।