স্বপন কুমার কুন্ডু, ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
ঈশ্বরদীর পদ্মা তীরবর্তী গ্রাম ও নদীতে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর জুড়ে কৃষকরা ফসল ফলাচ্ছে। পদ্মা নদী তীরবর্তী লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের কামালপুর, দাদাপুর, চরকুড়লিয়া, শান্তিনগর, ডিগ্রীর চর, চরমাদিয়া, বাটিকামারা, রাজারসাম, জয়েনপুর, সাঁড়া ইউনিয়নের সাহেবনগর চর, মোল্লা পাড়া ও বিল বামনী, পাকশী ইউনিয়নের চররূপকণিকা, চররূপপুর ও সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি, চরকুড়লিয়া ও মালপাড়াসহ ১৫টি গ্রাম ও চরের জমি চাষাবাদ করে কৃষকরা এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসী জানান, চরের জমি বন্দোবস্ত নিয়ে প্রান্তিক কৃষকরা লাউ, চালকুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, শসা, ঝিঙে, করল্লা, পেঁপে, গাজর, ওল কপি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, চিচিঙ্গা, ঢ্যাঁড়শ, ধনিয়া পাতাসহ বিভিন্ন শাকসবজির সঙ্গে সঙ্গে আখ, মশুর, খেসারি, ছোলা, গমসহ নানা ফসল এবং পেয়ারা, লিচু, কলা ও বরইসহ বিভিন্ন ফলের বাগান ও খামার গড়ে তুলেছেন। চরের বিশাল জমিতে মাঠ জুড়ে চোখে পড়ে শুধু সবজি আর ফসল। চরকুরুলিয়ার কৃষক সের আলী প্রামাণিক জানান, চরের এই জমিতে ভালো আবাদ হচ্ছে। আফজাল মোল্লা জানান, চরের জমিতে চাষ করে তিনি এখন অভাব দূর করে সচ্ছল হয়ে উঠেছেন। বর্গা নেওয়া ছয় বিঘা জমিতে প্রতি বছরই প্রচুর সবজির আবাদ হয়েছে।
সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রুহুল আমিন জানান, কৃষি ফসলকে কেন্দ্র করে কয়েকটি পাইকারি সবজি বিক্রয় হাট গড়ে উঠেছে। কিন্তু সবজি আবাদে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হলেও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। সাহাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতলেবুর রহমান মিনহাজ জানান, সাহাপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ব্যাপক সবজির আবাদ হচ্ছে। লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীকুন্ডায় নদী ভাঙনে জেগে উঠা চরের জমি রয়েছে ৬১২৮.১০ একর।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল লতিফ জানান, চরাঞ্চলের কৃষি ফসল ঈশ্বরদীর কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চরের পলি মাটি হওয়ায় ফসলের রোগ বালাই কম হয় এবং সার ও কীটনাশক কম দিতে হয়। ফলনও হয় খুব ভালো।
