বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে বিচারিক কার্যক্রম!

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৫৮

পাথরঘাটা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি

বরগুনার পাথরঘাটায় একযুগ ধরে নেই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন। ভাড়া করা ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনে চলছে বিচারিক কার্যক্রম। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন বিচারকসহ আইনজীবীরা। ঝড়বাদলের দিনে বিচার প্রার্থীরাও পড়ছে চরম দুর্ভোগে।

জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে দেশের প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গঠন করা হয়। এই নির্বাহী বিচার আদালত আইন মন্ত্রণালয়ের আওতায় জুডিশিয়াল বিভাগে পৃথক করার পর অনেক উপজেলা থেকে তা উঠিয়ে নেওয়া হলেও পাথরঘাটা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতটি জরুরি হিসেবে চালু রাখা হয়েছে। প্রথম দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের মধ্যে নিজস্ব ভবনে আদালতের কার্যক্রম চলছিল। বিভিন্ন জায়গার প্লাস্টার খসে পড়ায় ২০০৮ সালে এ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এর পরও ঐ ভবনেই কয়েক বছর ধরে চলে বিচারিক কার্যক্রম। পরে ২০১৪ সালের মার্চ মাসে পাথরঘাটা সরকারি কে এম পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে আদালতের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় এ ভবনটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

পাথরঘাটা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. মশিউর রহমান জানান, বর্তমান ভাড়া করা ভবনটিতে তাদের বসার মতো কক্ষ নেই। চেম্বার থেকে এসে কোর্ট করে আবার চেম্বারে চলে যেতে হয়। এমনকি এখানে নেই কোনো শৌচাগারেরও ব্যবস্থা। বিচারপ্রার্থীদের স্কুল মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বৃষ্টির দিনে ছাদ থেকে পানি পড়ে অফিসের দরকারি কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। পাথরঘাটা সরকারি কে এম পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আলম জানান, পাথরঘাটা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কাছে প্রথমে এক বছরের চুক্তিতে বিদ্যালয়ের একটি ভবন ভাড়া দেওয়া হয়। এতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। কোর্ট চলার সময় প্রতিদিন আসামিদের হাতকড়া পরিয়ে কোর্টে নিয়ে আসা হয়। তা দেখে বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা ভয়ে জড়সড়ো হয়ে পড়ে। এতে তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানান তিনি।

বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমন জানান, পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট কোর্টের একটি ভবন বরাদ্দের জন্য আমি চেষ্টা করছি, একনেকে পাশ হলেই ভবনটি নির্মাণ করা হবে।