পাপুল পরিবারের ৬৭০ ব্যাংক হিসাব জব্দ

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:২০

কুয়েতের কারাগারে আটক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল ও তার স্বজনদের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৯২টি তপশিলভুক্ত সম্পত্তি ক্রোকেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। আদেশে পাপুলের ১৪৮টি, তার স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা ইসলামের ৩৪৫টি, তাদের মেয়ে ওয়াফা ইসলামের ৭৬টি এবং শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের নামে খোলা ৪৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া সিআইডির অর্থ পাচারের মামলায় পাপুল ও তার মেয়ে এবং শ্যালিকা জেসমিন প্রধানসহ তার প্রতিষ্ঠানের ৫৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছে একই আদালত। এ নিয়ে এক দিনে মোট ৬৭০টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান জানান, জব্দের আদেশ হওয়ায় এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো ধরনের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না। এছাড়া কোনো অর্থ জমাও দিতে পারবেন না। পাশাপাশি সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ হওয়ায় তার কারো নামে স্থানান্তরেরও সুযোগ নেই।

এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক বিকালে একই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম। দুদক ও আসামি পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের পাসপোর্ট জমাদানের শর্তে   জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে হাইকোর্টে আগাম জামিন চান তারা। কিন্তু বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ তাদের আগাম জামিন না দিয়ে নিম্ন আদালতে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। ঐ নির্দেশনা মোতাবেক গতকাল তারা আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করে।

গত ৬ জুন অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগে এমপি শহিদ ইসলাম পাপুলকে গ্রেফতার করে কুয়েতের পুলিশ। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিচারকাজ চলছে। এরপরই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত পেয়ে গত ১১ নভেম্বর পাপুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে এবং শ্যালিকার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করে। এই পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তদন্ত করে তাতে ৩৫৫ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার সন্ধান পায় সিআইডি। এরপর গত ২২ ডিসেম্বর আরেকটি অর্থ পাচারের মামলা করা হয়। পাপুল ছাড়াও তার শ্যালিকা জেসমিন প্রধান, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম, ভাই কাজী বদরুল আলম লিটন, ব্যক্তিগত কর্মচারী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান মনির, জেসমিন প্রধানের কোম্পানি জে ডব্লিউ লীলাবালী, কাজী বদরুল আলম লিটনের মালিকানাধীন কোম্পানি জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল এবং এই কোম্পানির ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ছয় জনকে এতে আসামি করা হয়।

এসব মামলার পর দুদক ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব ও ৯২টি তপশিলভুক্ত সম্পত্তি এবং সিআইডি ৫৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দের জন্য আদালতে আবেদন জানায়। এসব আবেদনে বলা হয়, যদি উল্লিখিত অ্যাকাউন্টগুলো জব্দের আদেশ দেওয়া না হয় তাহলে অর্থ উত্তোলন করে তা অন্যত্র স্থানান্তর করতে পারেন আসামিরা। আদালতে দুদকের পক্ষে মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর ও সিআইডির পক্ষে অতিরিক্ত পিপি তাপস কুমার পাল শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত ব্যাংক হিসাব জব্দ ও সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেয়।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসঙ্গে এতসংখ্যক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের আদেশ তাত্পর্যপূর্ণ। তারা বলেন, অর্থ পাচার একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা যাতে কোনোভাবেই ছাড় না পায় সেজন্য দুদক ও সিআইডিকে আরো সতর্ক থাকতে হবে।