কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে মানবিক আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের অপর একটি দল স্বেচ্ছায় ভাসানচরের উদ্দেশ্যে ক্যাম্প ছাড়ছে আজ। আগের মতো উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ এলাকা থেকে তিন দলে ভাগ হয়ে রোহিঙ্গাবাহী বাসগুলো চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছাড়বে। উখিয়ার মূল ক্যাম্প ছাড়াও পুরো ৩৪ ক্যাম্প থেকেই ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গারা ট্রানজিট পয়েন্টে আসতে শুরু করেন রবিবার বিকাল থেকে। বাকিরা আজ সকালে এসে পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে তিন ধাপে ৩০টি বাস ও ২০টি ট্রাকে করে চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হবে তাদের। ওখান থেকে পরদিন (মঙ্গলবার) সকালে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা। প্রথমবারের মতো এবারও রোহিঙ্গাদের ভাসানচর যাত্রা নিয়ে প্রশাসনের কেউ মুখ খুলছেন না। তবে ব্যাপক আয়োজন চোখে পড়ার মতো। গতবারের মতো এবারও র্যাব-১৫ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে ওয়াকিবহাল একটি সূত্র। সূত্র মতে, স্বেচ্ছায় যারা যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তাদেরই কেবল স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে।
ইতিপূর্বে গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম যাত্রায় ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে গেছেন। আগে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে সমুদ্র উপকূলে আটক আরো তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে সেখানে নিয়ে রাখা হয়েছিল। এদের মাধ্যমে উখিয়া-টেকনাফে অবস্থান করা রোহিঙ্গারা ভাসানচরের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে স্বেচ্ছায় সেখানে যেতে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা।
বিভিন্ন ক্যাম্পের মাঝিরা জানান, অনেক রোহিঙ্গা পরিবার স্বেচ্ছায় ভাসানচর যেতে উদ্যোগী হচ্ছে। সূত্র জানায়, উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ে ঠাসাঠাসির বসবাস ছেড়ে ভাসানচরে যেতে তিন হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা রাজি হয়েছেন। তবে চার থেকে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার।
রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দফা ভাসানচর যাত্রা নিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভাসানচরের পথে চট্টগ্রাম থেকে চূড়ান্তভাবে জাহাজে না ওঠা পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের যাত্রা নিয়ে কোনো কথা না বলার বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। প্রথমবার যেভাবে সময়মতো গণমাধ্যমকে সবকিছু জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী ধাপেও একইভাবে জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, নোয়াখালীর হাতিয়ায় সাগরের মাঝে ভেসে থাকা ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে।
