জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে ------------- প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:২৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘আদর্শ ও নীতি মেনে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রবিবার ফেনী জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতির পিতার যে আদর্শ, যে নীতি, সেই নীতি মেনে চলতে হবে। আজকে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

ফেনী জেলা পরিষদ উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত খায়রুল বাশার মজুমদারকে এ অনুষ্ঠানে শপথ পড়ান প্রধানমন্ত্রী। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে স্থানীয় সরকারগুলোকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নিয়েছে। যে কারণে আমরা আইন করে এই জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ—প্রতিটি স্তর সুবিন্যস্ত করে, উন্নয়নের গতিটা যেন গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছায়, সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছায়, একেবারে তৃণমূল মানুষের কাছে যেন উন্নয়নের ছোঁয়া যায়, অর্থাত্ স্বাধীনতার সুফল যেন গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ পায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই কিন্তু আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ ফেনী জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যানকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে হবে। দেশের মানুষের আস্থা, বিশ্বাস অর্জনে কাজ করতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগ সেই সংগঠন, যে সংগঠন জাতির পিতা গড়ে তুলেছিলেন এবং যে সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছিল এই বাঙালি জাতি।

শেখ হাসিনা বলেন, যে কোনো অর্জনের পেছনে একটি শক্তির প্রয়োজন, সংগঠনের প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য নিয়েই জাতির পিতা আওয়ামী লীগকে তিলে তিলে গড়ে তোলেন। সেই সংগঠন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করলে তারা জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে অসহযোগ আন্দোলন ও সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন করে। তিনি বলেন, আমরা বিজয়ী জাতি। বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বে আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। 

শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতার আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার কথা অনুষ্ঠানে স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছিল, তারা যে খুনিদের বাঁচাতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, সে কথাও তিনি বলেন। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশার কথা আবারও তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্যটা হলো, পরবর্তী সময়ে যারাই আসুক ক্ষমতায় বা প্রজন্মের পর প্রজন্ম যারা আসবে, তাদের জীবনমান যেন উন্নত হয়। আর বাংলাদেশ যেন ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত হয়।