করোনা ভাইরাস সবার জীবনেই কোনো না কোনো বদল এনেছে! সব ভুলে নতুন স্বাভাবিকতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে মানুষ। ক্রিকেটও ব্যতিক্রম নয়। প্রায় চার মাসের নির্বাসনে ক্রিকেটের অনেক কিছুই এলোমেলো হয়ে গেছে। কিন্তু জৈব সুরক্ষা বলয়ের সহায়তায় মাঠে ফিরেছে ক্রিকেট। খেলোয়াড়দের সুরক্ষা, সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে অনেক নতুন নিয়ম প্রবর্তন করেছে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি। যদিও দর্শকশূন্যতার কারণে খেলাটার জৌলুসে কিছুটা ভাটা পড়েছে।
ক্রিকেট ফেরাল জৈব সুরক্ষা বলয়
করোনার প্রকোপের কথা মাথায় রেখেও গ্রীষ্মে ক্রিকেট মাঠে গড়ানোর পরিকল্পনা নেয় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। তা না হলে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানে পড়তে হবে যে। ৮ জুলাই সাউদাম্পটনে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের মধ্য দিয়েই ভাঙে ২২ গজের নীরবতা। জৈব সুরক্ষা বলয় ছাড়া যা সম্ভবই ছিল না! যেখানে দুই দলকে থাকতে হয়েছে নির্ধারিত সীমানার ভেতর। ইংল্যান্ডের পর বাকি দেশগুলোও এভাবেই ফের স্বাগত জানিয়েছে ক্রিকেটকে।
নিয়মের পরিবর্তন
স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বলে লালা ব্যবহারে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ভ্রমণ জটিলতার কারণে তিন সংস্করণে দেওয়া হয়েছে স্বাগতিক আম্পায়ারদের দিয়ে ম্যাচ চালানোর অনুমতি। ভুল সিদ্ধান্ত কমাতে তাই বাড়ানো হয়েছে রিভিউ সংখ্যা।
স্থগিত টি-২০ বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ
চার বছরের বিরতি কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় টি-২০ বিশ্বকাপ এবার হবে কি না, এ নিয়ে হয়েছে রাজ্যের আলোচনা। নানা জল্পনা-কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত স্থগিতের সিদ্ধান্তই নেয় আইসিসি। দুই বছর পিছিয়ে ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় হবে আসরটি। তার আগে এক বছর পেছানো হয় এশিয়া কাপও। এছাড়া বছর জুড়ে স্থগিত হয়েছে আইসিসির অন্যান্য টুর্নামেন্ট ও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো।
অ্যান্ডারসন-ব্রড জুটি
পেসার হয়েও ৩৮ বছর বয়সি জেমস অ্যান্ডারসনের এখনো খেলে যাওয়াটা বিস্ময়ের। করোনাকালেই সাদা পোশাকে ৬০০ উইকেট শিকার করেন তিনি। কম যান না ‘পার্টনার অব ক্রাইম’ স্টুয়ার্ট ব্রডও। টেস্টে এ বছরই ৫০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকেন এই পেসার।
পুরুষে ইংল্যান্ড নারীতে অস্ট্রেলিয়া
করোনার ধাক্কার পরও পুরুষ-নারী ক্রিকেট মিলিয়ে এই বছর অনুষ্ঠিত হয়েছে ২২০ ম্যাচ। ফেব্রুয়ারিতে মেলবোর্নে রেকর্ড সংখ্যক দর্শকের নারী টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা উচিয়ে ধরে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে গত বছরের মতো এবারও পুরুষ ক্রিকেটে বছরটা নিজেদের করে নিল ইংল্যান্ড। গতকাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ টেস্টে ছয়টি ও টি-২০-তে আটটি ম্যাচ জিতে বছর শেষ করে ইংলিশরা। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ছয়টি ম্যাচ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।
এদিকে ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে টি-২০ সিরিজ জিতেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু পরে করোনার কারণে ওয়ানডে সিরিজ স্থগিত রেখেই ফিরে আসে ইংলিশরা।
ভারতের ‘৩৬’ লজ্জা
বছরের শেষান্তে এসে অ্যাডিলেড টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারতের সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার ঘটনা বেশ আলোড়ন তুলেছিল। কোহলি, রাহানে, পুজারাদের নিয়ে গড়া ভারত মাত্র ৩৬ রানে অলআউট হয়।
অতঃপর গ্যালারিতে দর্শকদের ফেরা
ক্রিকেট না হয় মাঠে ফিরল, কিন্তু গ্যালারিতে দর্শক কবে ফিরবে? সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটায় অস্ট্রেলিয়া। গ্যালারিতে দর্শকদের সঙ্গে করেই ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
অবসর: মহেন্দ্র সিং ধোনি, সুরেশ রায়না, মোহাম্মদ আমির, এলটন চিগুম্বুরা।
মৃত্যু: স্যার এভারটন উইকস, জন রিড, ডিন জোন্স, জন এডরিচ, রবিন জ্যাকম্যান।
