এবার সিডনিতে নববর্ষের আতশবাজি দেখতে হবে ঘরে বসেই

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:২৪

খ্রিষ্টীয় বর্ষবরণ উত্সব পালনে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য এক শহর। সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউসে প্রতিবছর প্রচুর লোক জড়ো হয়ে নববর্ষের আতশবাজির জন্য কাউন্টডাউন করে থাকে। তবে এ বছর করোনা মহামারির কারণে সেখানে নববর্ষের বড় জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সিডনির উত্তরের সৈকত সংলগ্ন শহরতলীতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়। সোমবার আরো পাঁচ জন আক্রান্ত হওয়ায় সেখানে মোট আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ১২৫ এ। প্রায় আড়াই লাখ জনসংখ্যার এই অঞ্চলে এখন কঠোর লকডাউন চলছে যা ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সীমিত পরিসরে নববর্ষ পালনের এই ঘোষণা নতুন নিষেধাজ্ঞা যোগ করল। নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের প্রাইমার গ্ল্যাডিস বেরেজিকলিয়ান নববর্ষের রাতে সিডনির কেন্দ্রস্থলে অধিকাংশ লোকের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। এছাড়া বাসার বাইরের জমায়েত ৫০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে বেরেজিকলিয়ান বলেন, ‘নববর্ষের উত্সবে অধিক সংক্রমণের ঝুঁকি আছে এমন কোনো অনুষ্ঠান আমরা করতে চাই না যা পরে পুরো অঙ্গরাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।’ তিনি আরো বলেন, বাসা থেকে আতশবাজি দেখাটাই সবচেয়ে নিরাপদ হবে। শুধুমাত্র অনুমতিপ্রাপ্ত অধিবাসীরাই নববর্ষের উত্সবে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত অতিথিসেবার স্থানগুলোতে যেতে পারবেন। এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত, পুরো সিডনি জুড়ে বাসাবাড়িতে সর্বোচ্চ ১০ জন নিয়ে উত্সব আয়োজন করা যাবে। জনস্বাস্থ্য নির্দেশ অমান্য করার দায়ে বড়দিনের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ সিডনিতে ১৫টি নোটিস দিয়েছে। শনিবার ১১ জন মিলে পার্টি করার দায়ে উত্তর বন্ডির এক বাড়িতে নোটিস দেওয়া হয়। নিউ সাউথ ওয়েলসের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্র্যাড হ্যাজার্ড সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘যখন পুরো নিউ সাউথ ওয়েলস, এমনকি পুরো অস্ট্রেলিয়া ঠিক কাজটি করছে, তখন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যারা বোকার মতো কিছু করার কথা ভাবছেন তারা এসব ভুলে যান।’ দ্রুত সীমান্ত বন্ধ করা, লকডাউন, ব্যাপক মাত্রায় পরীক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কারণে মহামারির প্রথম ঢেউয়ে পরিস্থিতি বেশি খারাপ হওয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া সার্বিকভাবে এড়িয়ে যেতে পেরেছিল। দেশটিতে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ২৮ হাজার ৩০০ ও মারা গেছেন ৯০৮ জন।