বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসায় অবশেষে প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। ফলে সূচক, লেনদেন ও বাজার মূলধনে একের পর এক রেকর্ড গড়ছে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ। এরই ধরাবাহিকতায় গতকাল সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বাজার মূলধন সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে গেছে। ফলে বাজার মূলধন বৃদ্ধিতে রেকর্ড গড়েছে ডিএসই ও সিএসই।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইর সূচকের বড় উত্থানে বাজার মূলধন ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। ডিএসইর ইতিহাসে এটা সর্বোচ্চ বাজার মূলধন। একইভাবে সিএসইর সূচকের বড় উত্থানে বাজার মূলধন ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৯ কোটি ৩২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
গত বৃহস্পতিবার ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৯৪ কোটি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১৩ হাজার ৬০৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। একই সময়ে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৮২৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে সিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১৩ হাজার ৬৭৯ কোটি ৭৭ লাখ।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরে আসায় বছরের শেষ দিকে শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। ফলে বাজারে নতুন বিনিয়োগ ঢুকছে, যার ইতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়েছে। এছাড়া দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটার লেনদেন উভয় শেয়ারবাজারে শুরু হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হওয়ায় বাজার মূলধন বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এসে ঠেকেছে।
প্রসঙ্গত, রবিবার লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৯ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫৩২৮ দশমিক ২৭ পয়েন্টে। ডিএসইর সূচকের এই উত্থান গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে এসেছে। এদিকে লেনদেন শেষে সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ২২৬ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৯২৬২ দশমিক ৭২ পয়েন্টে। সিএসইর সূচকের এই উত্থান গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে নতুন নতুন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন বাজারমুখী হচ্ছেন; যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সূচক, লেনদেন ও বাজার মূলধনে।
