বেড়ায় পদ্মা-যমুনার ডুবোচরে আটকা পড়েছে ১২ জাহাজ

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪০

পাবনার বেড়ার কাজীরহাটের প্রায় তিন কিলোমিটার ভাটিতে প্যাঁচাকোলা ও নাকালিয়া চরে নাব্য-সংকটের কারণে বাঘাবাড়ী বন্দরমুখী ১২টি পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ পদ্মা-যমুনার ডুবোচরে আটকা পড়েছে। দিনে দিন আটকে পড়া জাহাজের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এদিকে নাব্য-সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করায় পণ্যবাহী জাহাজ পূর্ণ লোড নিয়ে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে মাঝ নদীতে আটকে পড়া জাহাজ থেকে লাইটারেজে করে রাসায়নিক সারসহ বিভিন্ন পণ্য বাঘাবাড়ী বন্দরে আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বাঘাবাড়ী নৌবন্দর সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-বাঘাবাড়ী নৌপথ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সারসহ অন্যান্য মালামাল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। উত্তরাঞ্চল থেকে বাঘাবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে চাল, গমসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এই নৌপথের তিনটি পয়েন্টে নাব্য-সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও মংলা বন্দর থেকে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা এমভি আছিয়া খালেক গাজী, মেসার্স করিম শিপিং  লাইন্স, ওটি শিপার্স ওয়ানন্ড-২,  ওটি করিম-৬, এমটি সুলতানা, ওটি আছিয়া বেগম, এমভি সুমাইয়া হোসেন, এমভি ফয়সাল, এমভি ফয়সাল-৮সহ ১২টি জাহাজ প্যাঁচাকোলা, চরশিবালয় ও নাকালিয়া চরের বিভিন্ন পয়েন্টে পদ্মা ও যমুনার ডুবোচরে আটকা পড়েছে। কার্গো জাহাজগুলো রাসায়নিক সার, কয়লা, গম ও চাল নিয়ে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে যাচ্ছিল। বিসিআইসির বাঘাবাড়ী ট্রানজিট বাফার গুদাম সূত্রে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের ১৪টি বাফার গুদামে রাসায়নিক সার চাহিদার ৯০ ভাগ বাঘাবাড়ী বন্দর থেকে জোগান দেওয়া হয়। এখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার বস্তা রাসায়নিক সার ট্রাকে করে সড়কপথে বাফার গুদামগুলোতে সরবরাহ করা হয়। যমুনা নদীর নাব্য-সংকটে বাফার গুদামগুলোতে আপত্কালীন সারের মজুত গড়ে তোলার কাজ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক ও বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের পোর্ট অফিসার সাজ্জাদ রহমান বলেন, ‘বাঘাবাড়ী থেকে আরিচা পর্যন্ত এই নৌপথে শুষ্ক মৌসুমের পর থেকেই আমাদের তিনটি ড্রেজার কাজ করছে। দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে সাত ফুটের বেশি ড্রাফট বা গভীরতা নিয়ে কোনো জাহাজ আসার কথা নয়। কিন্তু বেশির ভাগ জাহাজই ১০ থেকে ১২ ফুট ড্রাফট নিয়ে বন্দরে আসছে। এতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি জানান।’