সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ যে আমরা সবাই চাই, এ কথা কেউই অস্বীকার করতে পারবে না। চাই তো ঠিকই, তবে সে অনুযায়ী কতটুকু কাজ করি সে বিষয়ে নিজেকে প্রশ্ন করলে ভেতরের বিবেক থমকে যাবে, এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। নিজেরা সমাজে শান্তি চাই, চাই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, তবে এদেশের নাগরিক হয়ে কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারছি তা নিয়ে কখনোই কিন্তু ভেবে দেখি না। শেষ কবে সুষ্ঠু হয়ে বসে দেশের কল্যাণে কাজ করার কথা ভেবেছেন, তা হয়তো আমাদের সিংহভাগই মনে করতে পারবেন না।
আমাদের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় জ্ঞান, বুদ্ধি-বিবেক ও চেতনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আমরা ন্যায়ের পথে চলতে পারি এবং জগতে দুষ্কর্মের পরিণতি ও ফলাফল উপলব্ধি করতে পারি। সব ধরনের অনিষ্ট, অকল্যাণ, মন্দ কাজ ও মিথ্যাচার থেকে দূরে থেকে, সত্য-সুন্দর ও জনকল্যাণকর কাজে অংশগ্রহণ করতে পারি। এজন্যই আমাদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ মানসিকতা ও মানবিক প্রেমবোধ সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছে। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সকলের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা আমাদের দায়িত্ব। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সর্বদা কাজ করতে হবে।
করোনার এই সময়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। কমবেশি সবাই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ আর্থিকভাবে, কেউ শারীরিকভাবে আবার কেউ-বা মানসিকভাবে। নিজেকে ও পাশের জনকে নিরাপদ রাখতে হলে বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার যে অপরিহার্য সেটা তো সবাই জানে। কিন্তু মানে কজন? রাজধানীতে তুলনামূলক করোনার প্রকোপ বেশি, এটাও অজানা নয়। তবুও যদি আপনি লক্ষ করেন তাহলে দেখতে পাবেন এখানে অধিকাংশ লোক মাস্ক ব্যবহার না করেই চলাফেরা করছে। রাজধানীতে এটা এখন কমন দৃশ্য। একই সুরে বলতে গেলে, ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ কথাটি এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
বাঙালিদের একটা স্বভাব আছে, সেটা হচ্ছে কোনো কাজ নিজে পারি বা না পারি, অন্যকে সেই বিষয়ে পরামর্শ ঠিকই দিতে পারি। অন্যকে বলার আগে নিজে করি, অন্যের দোষ ধরার আগে নিজের দোষগুলো বের করে সেগুলো সংশোধন করে নিই। ঠিক তেমনিভাবেই রাষ্ট্রের কল্যাণে অন্যকে কাজ করতে বলার আগে নিজেই করা শুরু করি। সামাজিক বিধিনিষেধ মেনে চলি। দেশের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করি। তবেই তো মানবিক চক্ষু জাগ্রত হবে। জয় লাভ করবে মানবতা।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
