দীর্ঘদিন ধরে আইন মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকা খসড়া বৈষম্য বিলোপ আইনটি দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে নাগরিক উদ্যোগসহ সমমনা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, বাংলাদেশে জন্ম ও পেশাগত কারণে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার শিকার। ঐ সব জনগোষ্ঠীর নাগরিক ও সামাজিক অধিকার সুরক্ষার জন্য ২০১৩ সালে বাংলাদেশ আইন কমিশন বৈষম্য বিলোপ আইনের খসড়া তৈরি করে। ২০১৬ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনের খসড়াটি পর্যালোচনা এবং কিছু সংযোজন করে আরেকটি খসড়া ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। গতকাল ডেইলি স্টার ভবনে আয়োজিত ‘খসড়া বৈষম্য বিলোপ আইনের পর্যালোচনা এবং আইন পাশের জন্য অ্যাডভোকেসি সভা’য় বক্তারা এসব কথা বলেন। নাগরিক উদ্যোগ, দলিত নারী ফোরাম এবং বিডিইআরএম যৌথভাবে এই পর্যালোচনা সভার আয়োজন করে।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়নের ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বর আইন ও সংসদবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। ঐ সভার আগে বৈষম্য বিলোপ আইনসংক্রান্ত দাবিগুলো কমিটির সদস্যদের কাছে উপস্থাপন করা সম্ভব হলে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, জীবনের সব ক্ষেত্রেই বৈষম্য বিদ্যমান। এই বৈষম্যগুলো খুঁজে বের করে সেগুলো নিরসনের বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন কাজ। প্রস্তাবিত বৈষম্য বিলোপ আইনে এই সব ধরনের বৈষম্যকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। তিনি বলেন, আইনটি প্রণয়ন সম্ভব হলে বৈষম্য দূরীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, বৈষম্য বিলোপ আইনের খসড়াগুলো পর্যালোচনার বিষয়টি অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি বিষয়। বৈষম্যের বিষয়টি ব্যাপক এবং খসড়া আইনটি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সব ধরনের বৈষম্যকে খসড়ার অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। খসড়া পর্যালোচনায় বিভিন্ন মামলার রায়গুলোকে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি আরো গবেষণা পরিচালনার ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ডেপুটি পরিচালক নীনা গোস্বামী বলেন, আইন কমিশনের কাজ হলো বিভিন্ন আইনের খসড়া তৈরি করে সরকারকে সহায়তা করা। যেহেতু মানবাধিকার কমিশন আইনের আরেকটি খসড়া তৈরি করে দাখিল করেছে, সুতরাং খসড়া দুটি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করলে আইন ও সালিশ কেন্দ্র সেই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস এম মাসুম বিল্লাহ। আরো বক্তব্য রাখেন নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, আইন কমিশনের প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা ফউজুল আজিম, বন্ধু সোস্যাল ওয়েলফেয়ারের নির্বাহী পরিচালক সালেহ আহমেদ, অ্যাডভোকেট শংকর মজুমদার, ইউএনডিপি ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস এক্সপার্ট লুবনা ইয়াছিন, ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের ফারহানা আফরোজ, দলিত নারী ফোরামের মনি রাণী দাস প্রমুখ।
