ভাঙ্গায় সরকারি জায়গায় দোকান বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ইউএনও-এসিল্যান্ডের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। এসময় মানববন্ধন শেষে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। অবরোধের কারণে রাস্তার দুই প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। গতকাল সোমবার ভাঙ্গা বাজারের প্রবেশদ্বার থানা রোডে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা রকিবুর রহমান খান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন মিয়ার অপসারণসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমান, ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত্ হোসেন, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহিন, ভাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবু জাফর মুন্সি, সরকারি ভাঙ্গা কে এম কলেজের সাবেক ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা লাবলু মুন্সি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মুন্সি, ঘারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিউদ্দিন মোল্লা, আলগী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ম. ম. ছিদ্দিক, পৌর কাউন্সিলর ওমর ফারুক হবি, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ভাঙ্গা বাজারের প্রাণকেন্দ্রে ৫৫ নম্বর সদরদী মৌজার এস এ দাগ নম্বর ৪২৩, ৪২৪ ও বিএস দাগ নম্বর ১৮৫২, ১৮৫৩, ১ নম্বর খাস খতিয়ানে ৬২ শতাংশ জমি রয়েছে। এই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গা ঈদগাহ মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে ১০টি দোকান ঘর বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা করে আসছিল। নতুন করে তাদের বরাদ্দ না দিয়ে গত সপ্তাহে মাইকিং করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দোকানগুলো বুল ড্রেজার দিয়ে ভেঙ্গে দেয়। প্রশাসনের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রায় ৫ হাজারের ওপরে ব্যবসায়ীরা আবেদন করেন। গত বুধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮১ জনের নামে দোকান বরাদ্দ দিয়ে পজিশন বুঝিয়ে দেন এসিল্যান্ড। দোকান বরাদ্দ প্রকৃত ব্যবসায়ীদের না দিয়ে তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের গোপনে বরাদ্দ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ব্যবসায়ীরা।
