লন্ডন থেকে আসা যাত্রীরা কোয়ারেন্টাইন মানছে না!

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৫৭

যুক্তরাজ্যে নতুন করোনা ভাইরাসের প্রকোপে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ রাখার কথা বলছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, লন্ডন থেকে আগত যাত্রীরা কোয়ারেন্টাইনের নিয়মকানুন মানছেন না। এতে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কাও বেড়ে গেছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে লন্ডন থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট ১৬৭ জন যাত্রী নিয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর মধ্যে ১৪৪ জনই সিলেট বিভাগের অধিবাসী। বাকী ২৭ যাত্রী নিয়ে বিমানটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ওসমানী বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। এর আগে গত বৃহসপতিবার  বাংলাদেশ বিমানের আরেকটি ফ্লাইট ২০২ জন যাত্রী নিয়ে সিলেট আসে। এর মধ্যে ১৬৫ জনই  সিলেটের বসিন্দা। নতুন ধরনের ও অধিক সংক্রামক এই ভাইরাসকালীন  সিলেট-যুক্তরাজ্য ফ্লাইট চালু রাখা কতটুকু যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্ন অনেকেরই।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক               ডা. ময়নুল হক বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যুক্তরাজ্যে ও বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের মিউটেশন পজিশন এক। এটাই শঙ্কার বিষয়। এ জন্য এখন আমাদের এখানকার ভাইরাসের জেনোম সিকোয়েন্সিংয়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্য আরো মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্তদের শরীরে আগের মতই জ্বর, শুষ্ক কাশি হয়, খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ চলে যায়।” তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে সিলেট অঞ্চলের মানুষ শীতকালে দেশে বেড়াতে আসেন বেশি। তাই সংক্রমণের আশঙ্কাও বেশি।  যুক্তরাজ্যে ধরা পড়া নতুন ধরনের করোনা ভাইরাস মূল ভাইরাসের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি দ্রুত ছড়ায়। তিনি বলেন, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট বন্ধ করতে হবে।

সিলেটস্থ সুজন সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এর আগেও বিদেশি যাত্রীদের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটেছে। তাই আমাদের প্রবাসী ভাইদেরও বিষয়টি বোঝা দরকার। তিনি বলেন, বিমান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করলে আমরা মহামারির কবলে পড়ে যেতে পারি।

সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রবাস থেকে আসা যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। তাই সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সরকার স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে ও বাস্তবতার নিরিখে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে, এ আশাই করছি।’ উল্লেখ্য, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ওসমানী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীরা করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে এসেছেন। আবার দেশে আসার পরও মেডিক্যাল টিম সব যাত্রীদের পরীক্ষা করে। বিমানবন্দরের মেডিক্যাল টিমের সমন্বয়ক ডা. সিরাজুম মুনির বলেন, কারো সনদ না থাকলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে। সূত্র জানায়, প্রতি সপ্তাহে বাংলাদেশ বিমানের দুটি ফ্লাইট লন্ডন থেকে সিলেট আসে। এছাড়া প্রতি বুধবার একটি ফ্লাইট সিলেট থেকে লন্ডন যায়। চলতি মাসে এ পর্যন্ত ছয়টি ফ্লাইটে ১ হাজার ৫৭ যাত্রী যুক্তরাজ্য থেকে সিলেট এসেছেন।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় মনে করেন, করোনার নতুন স্ট্রেইনের সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিমান চলাচল আপাতত: বন্ধ রাখা উচিত। এটি ছড়িয়ে পড়লে সামাল দেওয়া কঠিন হবে। সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা.আনিসুর রহমান গতকাল ইত্তেফাককে জানান, এখন পর্যন্ত দেশের অন্য স্থানের তুলনায় সিলেটের অবস্থা ভালো। বিদেশ থেকে আগতদের এক সপ্তাহের জন্য হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। কিন্তু অনেকের মধ্যেই সচেতনতার অভাব—এটাই দুঃশ্চিন্তার কারণ। সিলেট বিভাগ সূত্র জানায়, গত শনিবার পর্যন্ত সিলেটের চার জেলায় করোনায় সর্বমোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৪০১ জন। মারা গেছেন ২৬২ জন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীও জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের সব ফ্লাইট বিশেষ নজরদারিতে আছে। প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হবে। গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মহড়ায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান।