দেশের সব এলপিজি অপারেটরর সিলিন্ডার গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর কোম্পানিগুলো এ দাবি জানাল। গত সপ্তাহে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) বর্তমান বাজার দরের গড়ে ১০ থেকে ১১ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দেয়। এ প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে রান্না ও পরিবহন খাতের জালানিটির দাম বাড়বে।
বিইআরসি জানায়, সরকারি এবং বেসরকারি এলপিজি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের জন্য গণশুনানি আগামী ১৪, ১৭ এবং ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা ৪ জানুয়ারির মধ্যে শুনানি-পূর্ব লিখিত বক্তব্য-মতামত কমিশনে পাঠাতে পারবে। গণশুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য তালিকাভুক্ত হতে ইচ্ছুকদের একই সময়সীমার মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশেন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) মূল্যনির্ধারণী একটি ফর্মুলাও প্রস্তাব করেছে। এর আগে বিইআরসির একটি কমিটিও পৃথক একটি ফর্মুলা অনুসরণের সুপারিশ করে। এ দুইটির মধ্যে অনেকখানি সামঞ্জস্য রয়েছে বলে বিদ্যুত্, জালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। দুই সুপারিশেই আন্তর্জাতিক দরের ওঠানামার সঙ্গে দেশের বাজারে মূল্য সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গত নভেম্বরে বেসরকারি এলপিজি অপারেটররা নিজেরাই একবার মূল্য সমন্বয় করেছে। এখন আবার দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব যৌক্তিক নয়। তবে লোয়াবের সভাপতি আজম জে চৌধুরী জানান, দেশে এলপিজির আমদানি খরচ অনেক বেশি। শুধু আন্তর্জাতিক দর নয়, আমদানি খরচসহ আনুষঙ্গিক খরচগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। বেসরকারি কোম্পানিগুলো বর্তমানে ভর্তুকি দিয়ে ব্যবসায় টিকে রয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম বলেন, শিল্প ও জনগণের সাধ্য-সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হবে। সাধারণ মানুষ প্রতি মাসে এলপিজির দাম পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে না। দাম মানুষের আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। বেশি বৈচিত্র্য ও পরিবর্তন এক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হবে। তাই ব্যাবসায়িক পর্যায়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হলেও খুচরা পর্যায়ে এটিকে ভারসাম্যপূর্ণ হতে হবে।
বিইআরসির এক কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভারতে প্রায় প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ভোক্তাদের মানসিকতা ও অভ্যাসে এমন চর্চা যুক্ত করা এখন কঠিন। তাই কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন কৌশল অনুসরণ করে এলপিজির উপাদান বিউটেন ও প্রোপেনের আমদানি খরচ কমানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে ২৫ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে প্রতি মাসে বা মাসে একাধিকবার দাম নির্ধারণ না করে প্রতি দুই বা তিন মাস পরপর করা যাবে। আমদানি পর্যায়ে দাম ওঠানামা করলে ভর্তুকি কমিয়ে বাড়িয়ে খুচরা বাজার ভারসাম্যপূর্ণ রাখা যাবে। তিনি বলেন, গণশুনানিতে সবগুলো অপশন নিয়ে আলোচনার পর বিইআরসি ফের একবার মূল্যায়ন করবে। এরপর মূল্য নির্ধারণ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
দেশে বর্তমানে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহূত হচ্ছে। এর মধ্যে সাড়ে ১৫ হাজার টন সরকারি কোম্পানি বাজারজাত করছে। বাদবাকিটুকু বেসরকারি কোম্পানিগুলো। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম গড়ে ১ হাজার টাকা। আর সাড়ে ১২ কেজির সরকারি এলপি সিলিন্ডারের দাম ৬০০ টাকা। এ প্রেক্ষাপটে সরকারি কোম্পানিও তাদের প্রতি সিলিন্ডারের দাম ৭০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।
