চট্টগ্রামে বিনিয়োগের বড় সমস্যা জায়গার সংকট

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ২৩:০৪

চট্টগ্রামে নতুন বিনিয়োগে বড় সমস্যা জায়গার সংকট। শিলাঞ্চলগুলোতে কোনো প্লট খালি নেই। যোগাযোগ সুবিধা রয়েছে এ ধরনের জায়গা অধিগ্রহণ হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে গত পাঁচ মাসে কোনো বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়নি। স্থানীয়ভাবে মাঝারি ধরনের ৬৬টি বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে। ফলে চট্টগ্রামের চেয়ে জায়গার দাম কম হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা মোংলা ও রাজশাহী অঞ্চলের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জমি কিনে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ছাড়পত্র প্রাপ্তি নিয়ে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগের জন্য আগে গ্যাস সংকট বড় বাধা ছিল। এখন এলএনজি আসার পর গ্যাস সংকট অনেকাংশে লাঘব হয়েছে। চট্টগ্রামে গ্যাস বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি। কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, প্রতি মাসে একাধিক নতুন শিল্প ও সম্প্রসারিত ইউনিটের জন্য গ্যাস সংযোগ অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে শিল্প বিকাশে অর্থনৈতিক সংকটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক শিল্পোদ্যোক্তা শিল্পের জন্য মেশিনারি পণ্য এনে আর্থিক সংকটে চালু করতে পারছে না।

এ ব্যাপারে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) আ ন ম সালেহ ইত্তেফাককে বলেন, শিল্পের জন্য কোনো আবেদন পেন্ডিং নেই। আবেদন পেলেই আমরা দ্রুত অনুমোদন দিয়ে দিচ্ছি। অনেক শিল্পোদ্যোক্তার অর্থ সংকটে উত্পাদনে যেতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে তাদের নিজস্ব কারণে সংযোগ নিতে দেরি হচ্ছে। তবে প্রতি মাসে কয়েকটি করে শিল্পে নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম কার্যালয় সূত্র জানায়, গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত  বিদেশি ও যৌথ উদ্যোগে নতুন কোনো বিনিয়োগ নিবন্ধিত হয়নি। ৬৬টি মাঝারি ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগ নিবন্ধিত হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে  প্রায় ৫ হাজার জনবলের কর্মসংস্থান হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দুই-একটি দেশ চট্টগ্রামে বিনিয়োগের খবরাখবর নিয়েছে। তারা সুবিধা মতো জায়গা আছে কিনা, দেখছে।

এছাড়া বিডা জানায়, গত ১৮-১৯ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কার্যালয় থেকে স্থানীয় বিনিয়োগ ১৬২টি ও বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ ১২টি এবং গত ১৭-১৮ অর্থবছরে স্থানীয় বিনিয়োগ ১৫৩টি ও বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ ১৫টি নিবন্ধিত হয়েছে। এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিডার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি কয়েকটি বিদেশি বিনিয়োগকারী এসে ঘুরে গেছেন। তারা জায়গা কেনা বা ভাড়ায় পাওয়া যায় কিনা, খোঁজ নিয়েছেন। তার মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উদ্যোক্তা রয়েছেন। তারা ৫ তারকা হোটেল ও সোলার প্ল্যান্টে বিনিয়োগে আগ্রহী। হোটেলের জন্য কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তবে পরে তাদের কোনো ফলোআপ পাওয়া যায়নি। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরকারি শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগে অনীহা দেখাচ্ছে। তারা স্বাধীনভাবে জায়গা নিয়ে বিনিয়োগ করতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। শিল্পাঞ্চলের বাইরে করতে গেলে দেশীয় অংশীদারিত্ব রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। না হলে জায়গার মালিক হওয়া যায় না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, চট্টগ্রামে নতুন বিনিয়োগে জায়গা সংকট রয়েছে। সুবিধাজনক স্থানে জায়গা মিলছে না। মোংলা ও রাজশাহী অঞ্চলে জায়গার দাম চট্টগ্রামের চেয়ে কম হওয়ায় অনেকে সেদিকে যাচ্ছেন। আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মিরসরাইয়ে বাস্তবায়নাধীন বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরীতে বিনিয়োগে উত্সাহ দিচ্ছি। এটি দ্রুত চালু করা গেলে নতুন বিনিয়োগের জন্য জায়গার সংকট হবে না। কারণ সেখানে এক জায়গায় গ্যাস, বিদ্যুত্, পানি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত রয়েছে।’

বিডা জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এলাকায় সড়কের উভয় পাশে কোনো জায়গা খালি নেই। শিল্পের জন্য জমি বেচাকেনা হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী , রাঙ্গুনিয়া এলাকায় জায়গা রয়েছে। বোয়াখালীতে বড় বড় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে জায়গা কিনে নিয়েছে।

চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চল হচ্ছে সিইপিজেড। বৃহত্ শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণের কোনো সুযোগ নেই। ভেতরেও কোনো প্লট খালি নেই। এ ব্যাপারে সিইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মসিউদ্দিন বিন মেজবাহ বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী জায়গার খবর নিচ্ছে। কিন্তু আমাদের কোনো প্লট খালি নেই। নতুন দুটি বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে। বিদেশি দুই বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

ব্যবসায়ীরা জানান, বিনিয়োগের জন্য চট্টগ্রাম হচ্ছে উপযুক্ত স্থান। এখানে বন্দর থাকায় পণ্য আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যাপক সুবিধা রয়েছে। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলম বলেন, বিনিয়োগের জন্য চট্টগ্রামে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। এখানে শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ রয়েছে। তবে বিনিয়োগের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে। জমি ক্রয়ে নিবন্ধন ও সরকারি সংস্থাগুলো থেকে দ্রুত এবং সহজে যাতে ছাড়পত্র নেওয়া যায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’