সৌরভ কী বিজেপিতে যাচ্ছেন?

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:৫২

জল্পনা নেহাত কমদিনের নয়। তাতে ইন্ধন জুগিয়েছে রবিবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলির ‘সৌজন্য’ সাক্ষাত্। এরই মধ্যে গতকাল সোমবার দিল্লির একটি অনুষ্ঠানে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একই মঞ্চে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির অবস্থান নিয়ে সেই জল্পনায় ঘি ঢেলেছে। খবর দ্য হিন্দুস্তান টাইমস ও ডয়চেভেলের

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্যেও কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ভাল লোকেদের বিজেপিতে আহ্বান জানাচ্ছে গেরুয়া শিবির। সৌরভের রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দিলীপ বলেন, আমার কিছু জানার নেই। তিনি কী করবেন, কী না করবেন। তিনি আমাদের সম্মানীয় ব্যক্তি। আমাদের ক্যাপ্টেন ছিলেন। দিলীপের কথায়, তার মতো সফল ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আসা উচিত। দিলীপের সেই মন্তব্য যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে একাধিবার সৌরভের নাম উঠে এসেছে। এমনকি সৌরভকে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করতেও পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। যদিও বাংলা সফরে এসে সেই প্রশ্নের জবাবে অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীর তালিকায় অনেকের নাম আছে। তা নেহাত ছোটো নয়। তাত্পর্যপূর্ণভাবে সৌরভের সম্ভাবনাও খারিজ করে দেননি অমিত শাহ। এর আগে মহারাজের ৪৮তম জন্মদিনে সৌরভের স্ত্রী ডোনার ইঙ্গিতবহ মন্তব্যে সেই জল্পনার হাওয়া আরো জোর হয়। রাজ্য বিজেপির মুখ হয়ে উঠবেন কিনা, সেই প্রশ্নের জবাবে ডোনা জানিয়েছিলেন, সৌরভ যে পিচেই খেলেন, সেখানেই শীর্ষে থাকেন। রাজনীতিতে যোগ দিলে সেখানেও সৌরভ শীর্ষে থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন ডোনা। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, সৌরভ রাজনীতিতে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা সেই বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তারপর দুর্গপুঁজার ষষ্ঠীর সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছিলেন ডোনা। তাতে আরো বাড়ে জল্পনা।

কংগ্রেস নেতা অরুণাভ ঘোষণ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পদে সৌরভের যোগ্যতাকেই নাকচ করে দিয়েছেন। তার কটাক্ষ, ‘সৌরভ মুখ্যমন্ত্রী হবে! ভাবা যায়! রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন একটা লোক মুখ্যমন্ত্রী হবে! পাগল করে দেবে!‌ হাইকোর্টের চিফ জাস্টিস ভালো চালাচ্ছেন, কিন্তু তিনি মুখ্যমন্ত্রী হবেন! বা প্রধানমন্ত্রী হবেন ভারতের! নবাব পতৌদি প্রধানমন্ত্রী!‌ পশ্চিমবঙ্গ আসলে অশিক্ষিতে ভরে গেছে’।‌