ফ্লোটিং টার্মিনালে সাহসী পিয়াল

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:৩২

জাহিদ হাসান দিপু

 

আমাদের নারীরা কী না পারে— সবক্ষেত্রেই তারা আজ পারদর্শী। আমাদের নারীরা বিশ্বের সবচেয়ে সেরাদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়াতে সক্ষম। তাদের মধ্যে আবার কয়েকজন থাকেন যারা নতুন পথগুলো সবার জন্যে উন্মুক্ত করে দিতে নিজেরা উদাহরণ হয়ে সৃষ্টি করেন নতুন সাফল্যের গল্প। পিয়াল সাহা তেমনি একজন মানুষ যিনি সমাজের সকল বেড়াজাল ভেঙে দিয়ে গড়েছেন ইতিহাস, খুলে দিয়েছেন দেশের নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার।

পিয়াল সাহা বাংলাদেশের প্রথম নারী ক্যাডেট, যিনি আন্তর্জাতিক কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির মহেশখালীতে অবস্থিত ফ্লোটিং টার্মিনালে ট্রেইনি ইঞ্জিনিয়ার পদে ৬ মাসের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।

পিয়াল বলেন, ‘আমি সবসময় আমার পরিবারের থেকে পূর্ণ সমর্থন পেয়েছি। তাদের আমার ওপর সবসময়ই আস্থা ছিল যে আমি কাজের জন্য প্রয়োজনে সমুদ্রেও থাকতে পারব। তাদের সমর্থন সবসমই আমাকে আরো সাহস দিয়েছে। যেখানে সব মেয়েরা আমাদের দেশে, পরিবারের থেকে নানা বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়, সেখানে আমি আমার পরিবারের থেকে পেয়েছি অনুপ্রেরণা, সেজন্যে আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবতী মনে করি।’  

এক্সিলারেট এনার্জি বর্তমানে বাংলাদেশি জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে কাজ করছে। যা বাংলাদেশি, বিশেষভাবে মেরিনারদের জন্যে এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। পিয়াল সাহার সঙ্গেই আরও একজন মেরিনার রবিউল হাসানকে এক্সিলারেট এনার্জি নিয়োগ দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য অদূর ভবিষ্যতে পুরো জাহাজটি শুধুমাত্র বাংলাদেশি নাবিক দ্বারা পরিচালনা করা। 

এক্সিলারেট এনার্জির মাধ্যমে সর্বপ্রথম মেরিন ক্যাডেট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে মিস সাহা প্রমাণ করেছেন নারীও সঠিকপন্থায় চেষ্টা করলে সাফল্য আসবেই। মিস সাহা বলেন, ‘আসলে আমি একজন রোল মডেল নই, একটি উদাহরণ মাত্র। সবাই মনে করেন— এই ধরনের কাজ করা একজন নারীর পক্ষে অসম্ভব আর এজন্যই আমি এমন কাজে যোগ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছি যে, আসলে এটা সম্ভব। শারীরিক কোনো বাধা এখানে নেই, আমি এখানে কাজ করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছি। আমি মনে করি, এর মাধ্যমে আমার জুনিয়রদের এবং ভবিষ্যত্ নারী মেরিনদের জন্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। তবে আমাদের নারীদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’

এক্সিলারেট এনার্জি এদেশে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে আরও বেশি এলএনজি ভাসমান টার্মিনাল চালু করবে বলে জানা গেছে।