বিবিসি
সৌদি আরবের সুপরিচিত নারী অধিকার কর্মী লৌজাইন আল হাথলৌলকে পাঁচ বছর আট মাস কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের শুনানিতে তিনি দোষীসাব্যস্ত হন। যদিও এ বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার শিকার হয়েছে সৌদি আরব।
সৌদির পত্রিকা সবক এবং আল শার্ক আল আওসাতের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩১ বছর বয়সি লৌজাইনের বিরুদ্ধে সৌদির রাজনৈতিক পদ্ধতি পরিবর্তন এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে পাঁচ বছর আট মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। লৌজাইনের বোন লিনা জানিয়েছেন, সাজা ঘোষণার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি এই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করবেন। পাঁচ বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আনা হয়েছে লৌজাইনের বিরুদ্ধে। এক বিবৃতিতে লিনা বলেন, আমার বোন কোনো সন্ত্রাসী নয়। সে একজন মানবাধিকার কর্মী।
লৌজাইনের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার ঘটনায় সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগে থেকেই সৌদির মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন। ৩১ বছর বয়সি লৌজাইন আল হাথলৌল প্রথম খবরের শিরোনামে উঠে আসেন ২০১৪ সালে। সে সময় গাড়ি চালিয়ে সৌদি আরব থেকে আরব আাামিরাতের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। তখন অবশ্য নারীদের গাড়ি চালানোর বিষয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা ছিল সৌদিতে। যদিও পরবর্তী সময়ে গাড়ি চালানোসহ বেশকিছু বিষয়ে নারীদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এরপর ২০১৮ সালের ১৫ মে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় তার সঙ্গে আরো কয়েক জন নারী অধিকার কর্মীকেও গ্রেফতার করা হয়।
