করোনা মহামারির বছরে কেমন ছিলেন শরণার্থীরা

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:১৩

ইত্তেফাক ডেস্ক

বিশ্ব জুড়ে করোনা মহামারির বছরে কেমন ছিলেন শরণার্থীরা? কারণ শরণার্থী শিবিরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা অনেক কষ্টসাধ্য বিষয়। এমনিতেই স্বল্প জায়গায় তাদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়, তার ওপর সংক্রমণের প্রকোপ থেকে বাঁচতে যদি বাড়তি জায়গার প্রয়োজন হয়, তাহলে তা সত্যিই দুশ্চিন্তার বিষয়। এই সংকট নিরসনে মানবাধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের চেষ্টার কমতি ছিল না। তবে সুখবর যে করোনা সেখানে ততটা ক্ষতি করতে পারেনি। মৃত্যুর হার ছিল ধারণার চেয়ে কম।

তার পরও শরণার্থীদের জন্য ২০২০ ছিল একটি কঠিন বছর। করোনা থেকে শারীরিকভাবে বাঁচতে পেরেছেন অনেকে ঠিকই, কিন্তু তাদের রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে। বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বছর জুড়ে বিভিন্ন দেশে ৩ হাজার ২০০-এর বেশি শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই সাগরপথে অন্য দেশে পাড়ি দিতে গিয়ে মারা গেছে। এ বছর স্প্যানিস ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ থেকে সুদান পর্যন্ত নতুন করে শরণার্থীর সংকট শুরু হয়েছে। বহু শরণার্থীকে বঙ্গোপসাগর ও ভূমধ্যসাগরে কয়েক মাস ধরে ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিয়ে ভেসে থাকতে হয়েছে। করোনা মহামারির ঝুঁকির কথা বলে তাদের গ্রহণ করা হয়নি। সেপ্টেম্বরে গ্রিসের শরণার্থী শিবির মরিয়ায় একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই শিবিরে ১৩ হাজার শরণার্থীর বসবাস এবং সেখানকার অবস্থা অত্যন্ত মানবেতর। গত অক্টোবরে সেনেগাল উপকূলে ১৪০ জন শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পুরো বিশ্ব করোনা মহামারি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এই ঘটনাগুলো সেভাবে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি।

দিয়ানা জয়নাব আলহিনদাওয়ি নামে সাবেক এক শরণার্থী ও ফটোগ্রাফার বলেন, ‘চলতি মাসের শুরুর দিকে আমি গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে ফিরে আসি। এই দেশকে আমি আমার দ্বিতীয় আবাস বলে মনে করি। আমি কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে অবস্থান করছি। গত মার্চ থেকে এখানে জাতিগত সহিংসতা চলছে। শুধু ইতুরিতেই গৃহহীন হয়েছে ১৬ লাখ মানুষ। করোনার প্রকোপের মধ্যে হয়তো আপনারা এ ব্যাপারে অল্পই জেনেছেন অথবা কিছুই জানেননি।’ তিনি বলেন, ‘পুরো বিশ্ব এ ঘটনায় অনেকটাই উদাসীন। ট্রাম্প প্রশাসনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার শরণার্থীদের আশ্রয় না দিতে এই করোনাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারও একসময় শরণার্থী ছিল। এখন আমার চিকিত্সক বাবা যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে কোভিড রোগীদের জীবন বাঁচানোর জন্য কাজ করছেন।’

গ্রিসে আশ্রয় নেওয়া আফগান শরণার্থী আজিজ বারবারি বলেন, ‘২০২০ সাল এখন পর্যন্ত আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ বছর। আমি এই পুরো বছরটি মরিয়া ক্যাম্পে কাটিয়েছি। এ বছর কোনো দিক থেকেই এখানে কোনো সাহায্য আসছে না। অপেক্ষা করতে করতে আমরা সাহায্য পাওয়ার আশাই ছেড়ে দিয়েছি। রাজনীতিবিদেরা কী করছেন তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। তারা যা চান, তা-ই করেন এবং অন্যরা নিঃশব্দে সেটা দেখে।’ অনেকটা আক্ষেপের সুরেই তিনি বলেন, মানুষ কীভাবে চোখ বন্ধ করে থাকে? অল্পবয়সি মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। শিশুদের আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই শীতে শিবিরগুলোতে ঠান্ডায় জমে যাওয়া মানুষ, সমুদ্রে ডুবে যাওয়া মানুষ অথবা শুধু খাবার চেয়ে চপেটাঘাত খাওয়া মানুষের ব্যাপারে কারো যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।