এ দেশের কৃষক সরবরাহকারী, উত্পাদনকারী নয়, ব্যবসায়ীও নয়। কৃষকের সরবরাহকৃত কাঁচামাল দিয়ে উত্পাদনকারী আর ব্যবসায়ী শূন্য থেকে স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করছে। আর অনাদিকাল থেকে কৃষক সেই শূন্যেই পড়ে রয়েছে। এদেশের কৃষক ছদ্মবেশী বেকার। একজন কৃষক এক মৌসুমে সাত দিন কাজ করেন। একদিন বীজ বোনেন, অন্যদিন চারা লাগান, দুদিন আগাছা পরিষ্কার করেন, একদিন কাটেন, আরেক দিন মাড়াই করেন এবং শেষে বিক্রি করেন। অথচ উত্পাদিত পণ্যের উপজাত দ্রব্যের ব্যবসায় অর্থাত্ সমন্বিত উত্পাদন ও ব্যবসায় পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষক একইসঙ্গে সরবরাহকারী, উত্পাদক ও ব্যবসায়ী হতে পারেন। পাশাপাশি সারা বছরই নিয়োজিত থাকতে পারেন উত্পাদন ও ব্যবসায়ে। সমন্বিত উত্পাদন ও ব্যবসায় পদ্ধতির দুটি উদাহরণ:
একজন কৃষক খুব সহজেই ১২টি পণ্য উত্পাদন ও ব্যবসা করতে পারেন। আবার দুগ্ধখামারি ১১টি পণ্য উত্পাদন ও ব্যবসা করতে পারেন সারা বছর ধরেই। এভাবে নারকেল বাগান থেকে নারকেল, নাড়ু, ঝাড়ু, ছোবড়া, ওড়ং, তেল, ঝাটার খিল, জ্বালানি, জাজিম এবং পোল্ট্রি ফার্ম থেকে বাচ্চা, ডিমের কেক, পালক দিয়ে তৈরি সামগ্রী আবার মৌচাষ থেকে মধু, মোম, মোমবাতি, আমবাগান থেকে পাকা আম, আমসত্ত, আচার, কলম, নার্সারি ইত্যাদি একাধিক পণ্যের উত্পাদন ও ব্যবসায় সম্ভব। ফলে কৃষক আর সারা জীবন কৃষক থাকবেন না। সমন্বিত উত্পাদন ও ব্যবসায় পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষকই হয়ে উঠবেন সরবরাহ, উত্পাদন ও ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রক। কৃষি উত্পাদনে ঘটবে বিপ্লব।
মো. কামরুজ্জামান
প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, টি অ্যান্ড টি কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
