ঝিনাইদহে ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৫০

১২৯ ইটভাটার মধ্যে লাইসেন্স আছে পাঁচটির

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলায় লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার ছড়াছড়ি। তোয়াক্কা করা হচ্ছে না ইটভাটা সংক্রান্ত আইনকানুন। পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের।

জেলা প্রশাসকের অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলায় ইটভাটার সংখ্যা ১২৯টি। এর মধ্যে চলতি বছরে এ পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি ভাটা লাইসেন্স করেছে। ১৮-২০টি ভাটার লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন আছে। বাকিগুলো বেআইনিভাবে ইট পোড়াচ্ছে। ৪২টি ভাটা সরকারি নিয়মনীতি মেনে চলে। ৬৩টি ভাটা আংশিক সরকারি নিয়মনীতি মেনে চলে। তারা কয়লা ও কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছে। আর ২৬টি ভাটা সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ব্যারেল চিমনি ও কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছে। এসব ভাটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সরকারে নিয়ম আছে কৃষিজমি ও লোকালয়ে ইটভাটা তৈরি করা যাবে না। কিন্তু অনেকগুলো ভাটা আছে যেগুলো কৃষিজমিতে গড়ে তোলা হয়েছে। আবাসিক এলাকায়ও ইটভাটা গড়ে উঠেছে। কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও অনেক ভাটা মালিক তা মানছে না। এদিকে জমির টপ সয়েল বিক্রি হয়ে ইটভাটায় যাচ্ছে।

ইট পোড়ানো মৌসুম শুরু হলে জেলায় বৃক্ষ নিধন শুরু হয়ে যায়। প্রতিদিনই কাঠবোঝাই ট্রাক ইটভাটায় যেতে দেখা যায়। বেড়ে যায় রান্নার জ্বালানি কাঠের দাম। শৈলকুপার চতুরা গ্রামের একটি ইটভাটা মালিক মো. খলিলুর রহমান জানান, এবার এক মণ কাঠ ১৩০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ কাঠ কিনে সাইজ করতে আরো খরচ হয়। তিনি জানান, ১ হাজার ইট পোড়াতে ২০ মণ কাঠ লাগে।

ঝিনাইদহ জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম পোটন বলেন, আইনকানুন মেনে ভাটা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, কয়লার দামও বেড়ে গেছে। আগে এক টন কয়লার দাম ছিল সাড়ে ৮ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে সাড়ে ১০ হাজার টাকা হয়েছে। ভাটায় পৌঁছাতে ১১ হাজার টাকা পড়ছে। তবে তিনি আরো জানান, কয়লায় ইট পোড়ানোর খরচ কাঠের চেয়ে কম পড়ে। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, অতি শিগিগরই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে প্রশাসন।