হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস
অনুকূল পরিবেশ ও পাখি শিকারিদের তত্পরতায় টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে অতিথি পাখির আগমন কমছে। শীত প্রধান দেশ থেকে আসা এসব পাখি হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এসব হাওর-বাঁওড়, খাল-বিল ও জলাশয়ে আশ্রয় নিত। কিন্তু সেই চির চেনা দৃশ্য এখন হারিয়ে যাচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘উপযুক্ত পরিবেশের অভাব ও পাখি শিকারিদের তত্পরতায় অতিথি পাখির সংখ্যা দিন দিন কমছে হাওরগুলোতে। সেসঙ্গে কমছে পাখিপ্রেমী পর্যটকের সংখ্যাও।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিশাল টাঙ্গুয়ার হাওরে নতুন করে বনায়নের মাধ্যমে পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল করে দিলে এখানে ইকো ট্যুরিজম গড়ে উঠবে।’
‘তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরটি ছিল এক সময় মাছ ও পাখির অভয়াশ্রম। কিন্তু এখন এটি নামেমাত্র অভয়াশ্রম,’ এই মন্তব্য করে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সমিতির সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরকে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। লোকবল বৃদ্ধি ও যথাযথ তদারকীর দরকার।’ শিক্ষক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘হাওরে গত চার-পাঁচ বছর ধরেই স্থানীয় জাতের পাখিসহ শীতের পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। এক সময় সুতা দিয়ে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার হতো। এখন রাতে হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে দলে দলে শিকারিরা পাখি শিকার করে। এ অবস্থা চলতে থাকলে পাখিশূন্য হবে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকা।’ সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘বন্যপ্রাণী আইনে দেশি ও অতিথি পাখি এবং প্রাণী শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। টাঙ্গুয়ার হাওরে অবৈধভাবে পাখি শিকার বন্ধে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আনসার ও পুলিশ নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। হাওরে এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের পাখিশুমারি অনুযায়ী হাওর ও এর আশপাশের এলাকায় ২০৮ প্রজাতির পাখি দেখা গেছে। পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে বিরল প্রজাতির প্যালাসেস ঈগল, বড় আকারের গ্রে কিংস্টর্ক রয়েছে টাঙ্গুয়ার হাওরে। স্থানীয় জাতের মধ্যে শকুন, পানকৌড়ি, বেগুনি কালেম, ডাহুক, বালিহাঁস, গাঙচিল, বক, সারস, কাক, শঙ্খ চিল, পাতি কুট ইত্যাদি পাখির নিয়মিত বিচরণ এ টাঙ্গুয়ায়। বিপন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি কুড়ল (দেশে এর নমুনা সংখ্যা ১০০টির মতো)। ২০১১ সালে পাখিশুমারিতে এই হাওরে চটাইন্নার বিল ও তার খাল, রোয়া বিল, লেচুয়ামারা বিল, রুপাবই বিল, হাতির গাতা বিল, বেরবেরিয়া বিল, বাইল্লার ডুবি, তেকুন্না ও আন্না বিলে প্রায় ৪৭ প্রজাতির জলচর পাখি বা ওয়াটারফাউলের মোট ২৮ হাজার ৮৭৬টি পাখি গণনা করা হয়।
