রাণীনগরে নতুন পাঠ্যবই রাখার নেই নির্দিষ্ট স্থান!

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৫৩

আব্দুর রউফ রিপন, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা

উপজেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন ও পুরাতন বই সংরক্ষণের জন্য উপজেলা পরিষদের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। এতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যালয় প্রধানদের।

জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪২টি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের জন্য প্রায় ৯১ হাজার ১৭০টি নতুন বই পাওয়া গেছে। এই বইগুলো ১ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে মজুদ করে রাখা হয়েছে। অপরদিকে উপজেলার ৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতটি মাদ্রাসা ও চারটি এবতেদায়ি মাদ্রাসার (স্বতন্ত্র) জন্য প্রায় ৩ লাখ নতুন বই এসেছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের বইগুলো উপজেলা পরিষদের একটি পরিত্যক্ত গোয়াল ঘরে মজুত করে রাখা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাসার সামছুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মূলত উপজেলা পরিষদে এসে বই নিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু পরিষদের ভেতরে সুরক্ষিত কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়েই একটি বিদ্যালয়ের কক্ষে বই মজুত করে রাখতে হয়েছে। এতে করে বই নিয়ে ঝুঁকি অনেকটাই থেকে যায়। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তখন সেটার দায়ভার আমার উপরেই বর্তাবে। তাই পরিষদের  ভেতরে বইয়ের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস সংরক্ষণের লক্ষ্যে দ্রুত একটি ভবন নির্মাণ করে শতভাগ নিরাপত্তা প্রদান নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এছাড়াও আমার অফিসের অন্য কর্মকর্তাদের বসার জায়গা নেই। সবমিলিয়ে যেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের জরাজীর্ণ অবস্থা।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, আমরা বাধ্য হয়েই উপজেলা পরিষদের এক কর্নারে পরিত্যক্ত গোয়াল ঘরে বই মজুত করে রেখেছি। যদিও বা বইগুলো বেশিদিন মজুত করে রাখতে হবে না। তবুও ঝুঁকি থেকেই যায়। নতুন বই না থাকলেও অনেক পুরাতন বই ও অন্যান্য উপকরণ সংরক্ষণ করার জন্যও একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত জায়গা (স্টোররুম) প্রয়োজন।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন বলেন, এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রস্তাবনা পাঠাব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।