বটিয়াঘাটায় ‘ইমু’ পাখির চাষে সম্ভাবনাময় যাত্রা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৭

শেখ আব্দুল হামিদ, বটিয়াঘাটা (খুলনা) সংবাদদাতা

উপজেলার কিসমত ফুলতলা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পাখি ‘ইমু’র চাষ। সফলতা ফিরে পেলে এ পাখির চাষ পৌঁছে যাবে উপজেলার ঘরে ঘরে। ব্যাপক ব্যয়বহুল মনে হলেও এটি একটি লাভজনক ব্যবসা। এ পাখির মৃত্যুহার খুবই কম। মাংস সুস্বাদু এবং পূর্ণ বয়সী একটি ইমুর ওজন হয় ৫০ থেকে ৬০ কেজি। ফিসমিল, ভুট্টা, ঘাস, লতাপাতা খেয়েই ওরা বেঁচে থাকে। একটি মা ইমু ১৮-২০ মাসের মধ্যেই ডিম পাড়া শুরু করে। প্রথমবারে ১৫-১৬টি ডিম পাড়লেও পরবর্তী বছর ৩০/৩৫টি ডিম দেয়।

বটিয়াঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম খান তার অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি ইমু পাখির চাষ শুরু করেন। বছরখানেক আগে তিনি ইমু পাখি তার পোল্ট্রি ফার্মে নিয়ে আসেন। মাত্র এক সপ্তাহ বয়সের দু’শ’ বাচ্চা নিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়। প্রতিটি বাচ্চার ক্রয় মূল্য পড়ে সাড়ে সাত হাজার টাকা। শুরুতে একটি কক্ষের মধ্যে রাখা হলেও এখন তারা খোলা মাঠেই নির্দিষ্ট ঘেরার মধ্যে ছাড়া থাকে। প্রতিটি ইমুর ওজন হয়েছে ৩০-৩৫ কেজি। তারা ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। রোদ-বৃষ্টি ঝড়ে সহনশীল এ পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বেশি। দু’শ’ বাচ্চার মধ্যে মাত্র ৭/৮টি মারা গেছে। ফার্মে দু’টি উটপাখিও রয়েছে। ইমুদের সাথে ১২টি উট পাখির বাচ্চা পরীক্ষামূলকভাবে আনা হয়। প্রতিটির মূল্য ছিল ২০ হাজার টাকা। এখন বেঁচে আছে মাত্র দু’টি। খোলা মাঠে বালি ভরাট করে তার উপর চাষ চলছে ইমুর। মাঠের পশ্চিম প্রান্তে চাল তৈরি করে রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত রোদ এবং গরম পড়লে ওরা ছায়ায় গিয়ে বিশ্রাম নেয়। ইমুদের মধ্যে হিংস্রতা দেখা যায় না। নির্দিষ্ট স্থানে পাত্র বসিয়ে সেখানে খাবার দেওয়া হয়। এ ছাড়া মাঠের অন্য প্রান্তে রয়েছে স্নানের জন অগভীর পুকুর।

বটিয়াঘাটা থানা থেকে দক্ষিণে খুলনা-দাকোপগামী রাস্তার পাশে ফার্মটি স্থাপিত হওয়ায় প্রতিদিন শতশত দর্শনার্থী ইমু পাখি দেখার জন্য রাস্তার পাশে ভিড় জমায়। ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুল আলম খান বলেন, ইমুর মাংসে চর্বি না থাকায় এর প্রতি মানুষের চাহিদা থাকবে বেশি। আগামী চার পাঁচ বছরের মধ্যেই ইমু পাখির চাষ বটিয়াঘাটার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে।