স্পোর্টস রিপোর্টার
ফেডারেশন কাপ ফুটবলে ব্রাদার্স ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে। বিদায়টা আগেই হয়ে গিয়েছিল। কাল ছিল আনুষ্ঠানিকতা। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিকালের ম্যাচে উত্তর বারিধারা ক্লাব ৩-০ গোলে ব্রাদার্সকে হারিয়েছে।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পড়ন্ত বিকালে উত্তর বারিধারার জয়ে যতটা না আলোচনা হয়েছে তার ঢের বেশি সমালোচনা হয়েছে ব্রাদার্সের লজ্জার হার দেখে। বিদায় দেখে। কাল প্রেসবক্সেও সমালোচনা হচ্ছিল। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে ১১ গোল হজম করেছে। এর আগেও ৭ গোল হজম করার রেকর্ড আছে ব্রাদার্সের। এখানে গোল হজম করার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে এতো ছন্নছাড়া দল হতে পারে না। ক্ষুদ্র আকারে হলেও আরো গোছানো হতে পারত। সাবেক কোচ এবং ফুটবলার সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী বললেন, ‘সবাই ফেডারেশনে বসা নিয়ে ব্যস্ত, দলের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়।’
আগাখান গোল্ডকাপ, ঢামফা কাপ, ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাদার্স। সাফল্যের কতো স্মারক কমলা-নীল শোকেসে সৌরভ ছড়ায়। শহিদ উদ্দিন সেলিম, সালাম, মহসিন, বাবলু, ওয়াসিমদের মতো ফুটবলারদের নিয়ে পাকিস্তানি কোচ গফুর বালুচের হাতে গড়া সোনায় মোড়ানো সেই ব্রাদার্স এখন মাঠের খেলায় ধুঁকছে। বাঁচার অক্সিজেন চায়।
শফিকুল ইসলাম মানিক, আজমত, বাতেন, লিটনরাও ব্রাদার্সের ঝান্ডা তুলে রেখেছিলেন শ্রদ্ধার আসনে। তখনো মোহামেডান, আবাহনীকে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে ৩০-৪০ হাজার দর্শকের সামনে ব্রাদার্সের কাছে কঠিন পরীক্ষা দিতে হতো। প্রিমিয়ার লিগের শেষ দুই বারের ট্রফি ব্রাদার্সের ঘরে।
ফুটবলে মাথা উঁচু করে চলা গোপীবাগের সেই ব্রাদার্স এখন ফুটবলের মাথা নিচু করা একটি দল। ক্লাস রুমে ব্যাকবেঞ্চের শিক্ষার্থী যেভাবে থাকে। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে কোনো রকমে রেলিগেশন ঠেকিয়ে বেঁচে গিয়েছিল। তার পরও চালকের আসনে থাকা কর্তারা ক্লাবের নতুন ভবিষ্যত্ পরিকল্পনায় জেগে উঠতে পারল না। সুন্দর পরিকল্পনার অভাবে এবার নির্ধারিত সময়ে খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করতে না পারার লজ্জা মাথায় নিয়েছে, একমাত্র ব্রাদার্স।
কিন্তু ব্রাদার্সের এই দুরবস্থা কেন? পরিশ্রমী সংগঠক দলের ফুটবল ম্যানেজার আমের খান বললেন, ‘টিম-ই নামাতে পারি না। আমরা কিছুটা সমস্যায় ছিলাম। এখন সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে। লিগের চিন্তা করে আমরা দল গড়েছি।’ সবকিছু গুছিয়ে ফুটবলে আবার নতুন ফুলের মালা গাঁথবে এটাই দেখতে চায় ফুটবল অনুরাগীরা।
জার্মানি হতে ইরানি বংশোদ্ভূত কোচ রেজা পাকসে আসতে পারছেন না। সেখানে করোনার কারণে। আব্দুল কাইউম সেন্টু এখন কোচ হয়েছেন।
ফেডকাপ হতে বিদায় নিলেও আজ থেকে সেন্টু অনুশীলন শুরু করবেন। সিরাজী হোটেলে খাওয়া বন্ধ। আমের বললেন, ‘ক্লাবেই রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
