ভাসানচরে পৌঁছেছে আরো ১৮০৪ রোহিঙ্গা

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:১০

দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ৮০৪ জন রোহিঙ্গা গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভাসানচরে পৌঁছেছে। সকালে চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরের উদ্দেশ্যে নৌবাহিনীর পাঁচটি জাহাজে যাত্রা শুরু করে রোহিঙ্গাদের এই দলটি। এর বাইরে আরো একটি জাহাজ তাদের মালামাল বহন করে। রোহিঙ্গাদের স্বাগত জানাতে ভাসানচরে রঙিন ব্যানার ফেস্টুনে সাজানো হয়। এ সময় ঘাটে অবস্থান করে রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করে নৌবাহিনী ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে ভাসানচরের স্বাস্থ্যকর্মীরা রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নির্ধারিত ঘরে পাঠায়। সকালে পতেঙ্গা থেকে জাহাজে উঠার সময় রোহিঙ্গাদের লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে দেওয়া হয়। নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, র্যাব, নৌপুলিশের টহল ও কড়া নজরদারির মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাহাজগুলো একে একে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নৌঅঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মোজাম্মেল হক জানান, প্রথম দফায় ১ হাজার ৬৪২ জনের একটা গ্রুপ ভাসানচরে গেছে। তারা যাবার পরে কক্সবাজারে তাদের যেসব আত্মীয়স্বজন ছিলেন, তারা খবর পেয়েছে যে ভাসানচরে তারা ভালো আছে। ছবিও তারা দেখেছে। এরপর মঙ্গলবার ১ হাজার ৮০৪ জন যায়, যা ধারণার চেয়েও বেশি। এটা খুবই উত্সাহব্যঞ্জক, কারণ এখানে কাউকে কোনো ধরনের জোর করা হয়নি। সবাই স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এসেছে। আশা করা যায়, ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। ভাসানচরে ১ লাখ লোকের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোহিঙ্গাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে।

ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সরকার। সেখানে ১ লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়। যেখানে রয়েছে—শিশুদের খেলার মাঠ, স্কুল, চিকিত্সা কেন্দ্র, দ্বীপে কর্মরত দেশি-বিদেশি সংস্থার লোকজনের জন্য থাকার আলাদা ভবনসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। এ ছাড়া জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস থেকে সেখানকার ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রক্ষা করতে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৯ ফুট উঁচু বাঁধ এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের জন্য ভবন ও জেটি নির্মাণ করা হয়েছে ভাসানচরে।

গতকাল ৪২৮ পরিবারের ১ হাজার ৮০৪ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে যায়। এর মধ্যে পুরুষ ৪৩৩, মহিলা ৫২৩ ও শিশু ৮৪৮ জনসহ মোট ১ হাজার ৮০৪ জন। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, রোহিঙ্গাদের বহন করা ছয়টি জাহাজের মধ্যে দুইটি দুপুর ১টায় ও পরে পর্যায়ক্রমে সব জাহাজ এসে পৌঁছায় ভাসানচরে। এর মধ্যে পাঁচটি জাহাজে রোহিঙ্গারা ছিল, একটি জাহাজে তাদের মালামাল ছিল।