প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেটো অগ্রাহ্য করার পক্ষে মত দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। সোমবার অনুষ্ঠিত ভোটে হাউজের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আইনপ্রণেতা সমর্থন দিয়েছেন। সমর্থন দিয়েছেন ১০৯ জন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের শেষদিকে এসে রিপাবলিকান দলের ভেতর বিভক্তির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে দলে ট্রাম্পের প্রভাব কমেছে সেটাও বোঝা যাচ্ছে।
চলতি মাসেই ৭৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের (৬২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা) প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় কংগ্রেসে পাস হয়। কিন্তু গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলে ভেটো দেন। তিনি বলেন, এই বিলটি আসলে রাশিয়া ও চীনের জন্য উপহার। নিয়ম হলো, কংগ্রেসের দুই কক্ষে কোনো বিল পাস হওয়ার পরে তা প্রেসিডেন্টের সইয়ের জন্য পাঠানো হয়। প্রেসিডেন্ট কোনো কারণে অনুমোদন না দিলে তা ফিরে আসে কংগ্রেসে। এরপর কংগ্রেসের দুই কক্ষে বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলে প্রেসিডেন্টের সই ছাড়াই আইনে পরিণত হয়। ট্রাম্প ভেটো দেওয়ার পর এই বিলটির ক্ষেত্রে তেমনই হচ্ছে।
সোমবার প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের ভেটো অগ্রাহ্য করার পক্ষে ৩২২টি ভোট পড়ে আর বিপক্ষে পড়ে ৮৭টি ভোট। এখন বিলটির ভাগ্য নির্ভর করছে সিনেটের ওপর। সেখানে প্রেসিডেন্টের ভেটো অগ্রাহ্য করার পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পড়লে বিলটি আইনে পরিণত হবে। এটি হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো ভেটো অগ্রাহ্য করার প্রথম ঘটনা। আর যদি সিনেটে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে ৬০ বছর পর প্রতিরক্ষা বিল অনুমোদন পাবে না।
প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলে আফগানিস্তান ও ইউরোপ থেকে সেনা সরানোর ওপর কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যা ট্রাম্পের পছন্দ নয়। এছাড়া বেশ কয়েকটি বিষয়ে ট্রাম্প আপত্তির কথা জানিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে একমত নন রিপাবলিকান সিনেটররা। অনেক সিনেটর মনে করছেন, সময়ের বিচারে বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এই ভোটকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আশা করি, প্রেসিডেন্টের অন্তর্ঘাতমূলক প্রচেষ্টার পরও এই আইন হবে। যদিও ২০ জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের ভেটো অগ্রাহ্য না করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
এদিকে ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী করোনা রিলিফ আইনে বছরে ৭৫ হাজার ডলারের নিচে আয় করেন এমন মার্কিনিদের জন্য এককালীন ভাতা ৬০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ডলার করার পক্ষে ভোট দিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। তবে সিনেটে এই প্রস্তাব বাধার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রথমে এই বিলে সই করতে আপত্তি করেন। পরে সব পক্ষের চাপের মুখে সই করেছেন তিনি। সিএনএনের এক খবরে বলা হয়েছে, এই বিলে সই করার জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে লবিং করেন জর্জিয়ায় রিপাবলিকান সিনেটর প্রার্থী ডেভিড পারডু। পুনরায় সিনেটর হতে লড়ছেন পারডু। জর্জিয়ার এই নির্বাচনে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারিত হবে। রিপাবলিকানরা একটি জিতলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা দুটিতে জিতলে সমতা আসবে।
