এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য স্কুল-কলেজ খুলতে পারে ফেব্রুয়ারিতে

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৩৩

করোনার কারণে আগামী বছরের জুনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং জুলাই-আগস্টে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গতকাল মঙ্গলবার অনলাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত ১৬ মার্চ থেকে প্রত্যক্ষ শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ। এ কারণে ২০২১ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস শেষ করা যায়নি। সিলেবাস কাস্টমাইজ করার কার্যক্রম চলছে। পরের স্তরে যেতে যেগুলো প্রয়োজন সেগুলোকে মাথায় রেখে সিলেবাস কাটছাঁট করে ছোট করা হবে, সেটি আমরা জানিয়ে দেব।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল—এই সময়কালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে পড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, সেই চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি যদি অনুকূলে থাকে ২০২১ সালের জুন নাগাদ এই পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করব। স্কুলগুলো খুলে দেওয়ার চেষ্টা করব। দশম ও দ্বাদশ শ্রেণি যেন নতুন সিলেবাসে ক্লাসে ক্লাস করে পরীক্ষা দিতে পারে। এছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত হয়তো ক্লাসরুমে নিয়ে ক্লাস করানো হবে। কাস্টমাইজ সিলেবাস ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জানিয়ে দিতে পারব। জুলাই-আগস্ট নাগাদ এই পরীক্ষা গ্রহণের আশা প্রকাশ করছি।

জানুয়ারিতে এইচএসসির ফল প্রকাশের অধ্যাদেশ

মহামারির মধ্যে বিশেষ পরিস্থিতিতে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে নতুন বছরের শুরুতে, তবে সেজন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার ফল সংক্রান্ত আইন রয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে ফল প্রকাশের জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। দেশের ১১টি বোর্ডে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থীর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ এপ্রিল থেকে। দীপু মনি বলেন, এইচএসসির ফল তৈরি আছে, অধ্যাদেশ জারি করা প্রয়োজন, এটি জারি করা মাত্রই ফল দিয়ে দিতে পারব। আশা করি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এটি জারি করতে পারব, এটি জারি করতে পারলেই ফল দিয়ে দেব।

জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষিত হবে।

এক দিনে নয়, এবার পাঠ্যবই বিতরণ ১২ দিনে

করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে বছরের প্রথম দিন স্কুলে স্কুলে বই উত্সব হবে না। এ কারণে ১ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ ডিসেম্বর বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

এবার জিপিএ থাকবে না

জেএসসি-জেডিসির সনদে

করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে এবার পরীক্ষা ছাড়াই জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার্থীদের পরের ক্লাসে তোলা হবে বলে তাদের সনদপত্রে কোনো জিপিএ থাকবে না। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে এ বছর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয়নি। বোর্ডগুলো সব শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ সনদ দেবে, কিন্তু কোনো নম্বরপত্র দেওয়া হবে না।

মাধ্যমিকে রোল নম্বর থাকবে না,

থাকবে ইউনিক আইডি

করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে এবার মাধ্যমিকের নতুন ক্লাসে ওঠা শিক্ষার্থীদের চিরাচরিত প্রথায় রোল নম্বর দেওয়া হবে না। শিক্ষামন্ত্রী জানান, বার্ষিক পরীক্ষার মেধাক্রমের ভিত্তিতে আগে যে রোল নম্বর দেওয়া হতো, তার বদলে শিক্ষার্থীদের এবার আইডি নম্বর দেওয়া হবে।

আর প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা আগের ক্লাসের রোল নিয়ে পরের ক্লাসে উঠবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানিয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি  বলেন,  আমরা চেষ্টা করছি ২০২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের শ্রেণির রোল নম্বরের এই বিষয়ের পরিবর্তে আইডি নম্বর প্রদান করতে, এতে পুরোনো রোল নম্বর প্রথার বিলুপ্তি হবে এবং অনভিপ্রেত প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা সত্ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হবে বলে আশা করছি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক থেকে সব শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি দেওয়া হবে। পুরো শিক্ষা জীবনে সে ঐ আইডি নম্বর নিয়ে থাকবে, তাতে তাকে ‘ট্র্যাক’ করা যাবে, সে ঝরে পড়ছে কি না।

নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন জানুয়ারিতে

নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত নীতিমালায় নানা ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ জন্য অনেক সময় প্রয়োজন হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে নীতিমালা জারি করা হবে। এর পরই আবেদন নেওয়া হবে।