করোনা মহামারিতে ৭০ ভাগ অভিবাসী কর্মীর বিদেশ যাওয়া কমেছে : রামরু

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:১৬

করোনা ভাইরাস সংকট শুরু হওয়ার পর অভিবাসী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার হার ৭০ ভাগ কমে গেছে। বিশেষ করে যারা এ সময়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন, তারা আর ফেরত যেতে পারেননি। এ অভিবাসী ও তাদের পরিবারের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব পড়তে পারে আগামী বছরের রেমিট্যান্সের ওপরে। রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট—রামরুর ‘বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি ২০২০ : সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ফেরত এসেছেন ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭৫৮ জন কর্মী। তাদের মধ্যে ৩৯ হাজার ২৭৪ জন নারী। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৭ লাখের বেশি মানুষ বিদেশে কাজের জন্য গেলেও এ বছর গেছে ২ লাখের কম শ্রমিক। মার্চ মাস থেকেই আটকে গেছে বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ ভাগ্যান্বেষী মানুষের বিদেশ যাত্রা। রামরুর চেয়ারপার্সন অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, যদিও বিপুলসংখ্যক শ্রমিক তাদের সঞ্চিত অর্থ নিয়ে দেশে ফিরে আসায় রেমিটেন্স বেড়েছে। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে সামনের বছর। তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ হবে না। কারণ যেসব খাতে আমাদের দেশের অদক্ষ শ্রমিকরা যায়, গৃহকর্মী, নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি খাতে শ্রমিকদের চাহিদা সব সময় থাকবে।

অক্টোবরের পর থেকে যারা শুধু ছুটিতে এসেছিলেন, তারাই আবার কাজে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু দেশে ফেরত আসাদের অনেকেই চাকরি হারিয়ে, কেউ কেউ অবৈধ শ্রমিক থেকে দেশে আসতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু কবে তারা আবার বিদেশে কাজের জন্য যেতে পারবেন, সেই সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না।

প্রতিবেদনে নারী অভিবাসনের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ৮১৩ জন নারী কর্মী কর্মের উদ্দেশ্যে বিদেশ গেছেন। ২০১৯ সালে নারী অভিবাসনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৭৮৬ জন।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, অক্টোবর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত নতুন করে অভিবাসিত হয়েছেন ২ হাজার ৪৬৪ জন। নতুন অভিবাসীদের ৮১১ জন গেছেন ওমানে। সৌদি আরবে গেছেন ৮১৩ জন। উজবেকিস্তানে ৫২৪ জন, সিঙ্গাপুরে ৯১ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬০ জন এবং আলবেনিয়ায় ২৪ জন গেছেন। উজবেকিস্তান গতানুগতিক অভিবাসনের দেশ নয়। নতুন অভিবাসীদের ২১ শতাংশ উজবেকিস্তানে গেছেন।