বৃক্ষ

চন্দন

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৫০

মূলত সুগন্ধের জন্যই চন্দন বিখ্যাত। আমরা চন্দন হিসেবে গাছের যে অংশটি ব্যবহার করি তা মূলত কাঠের  ভেতরের পরিপক্ব অংশ। এর মধ্যে উদ্বায়ী তেলও আছে। এই তেলটিই সুগন্ধি। মূলে প্রচুর তেল থাকে। চন্দন থেকে তৈরি চুয়া পানের সঙ্গে খাওয়া হয়। এসব ছাড়াও চন্দন বাটা জ্বর, ঘামাচি এবং মাথাধরা উপশমে কার্যকর। আবার ক্ষত স্থান সারাতেও বেশ কাজে দেয়। বমি, পেট ব্যথা এবং গণোরিয়া রোগে গাছের বিভিন্ন অংশ কাজে লাগে। কেউ চন্দন-কাঠের আসবাবপত্র ঘরে সাজিয়ে রাখেন।

আমাদের দেশে রক্তচন্দনের তুলনায় শ্বেতচন্দন বেশি দেখা যায়। উদ্ভিদবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম ১৭৫৩ সালে এই গাছের প্রজাতি শনাক্ত করে।

সাদা চন্দন চিরসবুজ গাছ। সাধারণত চার থেকে নয় মিটার উঁচু হয়ে থাকে। বাকলের ভেতরের অংশ লালচে, খিঠ শক্ত ও তেলযুক্ত। কাঠের ভেতরের দিকটা ধূসর ও সুগন্ধযুক্ত। পাতা ডিম্বাকৃতির, সরু লম্বাটে। ফুল মৃদু বেগুনি রঙের। ফল ছোট, গোলাকার, মটরদানার মতো।

বর্ষা থেকে শীত পর্যন্ত ফুল ও ফলের মৌসুম। গাছ পরিপক্ব হতে প্রায় ৫০ বছর লাগে। আদি আবাস ভারত। ভারত ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং অস্ট্রেলিয়ায় দেখা যায়। ভারতের মহিশূর চন্দনের জন্য বিখ্যাত।

শুকনো বনাঞ্চল, বালিমাটি বা পাথুরে এলাকার লাল মাটিতে চন্দন ভালো জন্মে। তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৫০০ থেকে ৩০০০ মিলিমিটারে এ গাছ চাষে সহায়ক। বর্তমান সমীক্ষা অনুযায়ী সারা বিশ্বে এদের অবস্থান সংরক্ষিত।